দেশ ও জাতির ঘাড়ে এক স্বৈরাচারি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের জগদ্দল পাথর চেপে বসেছে। জনগণ এই অপশাসন-দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায় বলে মন্তব্য করেচেন বাংলাধেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, দ্বীন কায়েমের প্রত্যয়, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা যে অনুভূতি লালন করি তা আল্লাহ তায়ালার দান। আর যুগে যুগে এই অনুভূতি লালন ও পালন করতে গিয়েই অনেকে জন্মভূমি ছেড়ে হিজরত করেছেন, শাহাদাত বরণ করেছেন। এছাড়া আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন অগণিত মানুষ। তাই ইতিহাসের সেই ধারাবাহিকতায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের সকল বাধা-প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা দ্বীন প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) রাজধানীর একটি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত নবনির্বাচিত মহানগরী আমিরের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত মহানগরী উত্তরের মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে অঞ্চল পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত মহানগরী আমিরকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
তিনি দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো বেগবান করার জন্য সকলকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের ওপর জুলুম-নির্যাতন ইতিহাসের ধারাবাহিকতা। সেই ধারাবাহিকতায় অনেক নেতাকর্মী নানাবিধ জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে শাহাদতও বরণ করেছেন। তিনি তাদের রেখে যাওয়া আমানত রক্ষায় সকলকে ময়দানে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
আমীরে জামায়ত বলেন, দায়িত্ব কেউ চেয়ে নেয় না। চেয়ে নিলে আল্লাহর পক্ষ থেকে লানত আসে। দায়িত্ব যদি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে, তখন আল্লাহ তার ওপর রহমত নাযিল করেন। তিনি নতুন করে শপথ গ্রহণ করা আমিরের সুস্থতা ও দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘মহান আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সুস্থ্য থেকে সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের তাওফিক দান করুন। তিনি তাদের প্রতি প্রতিশ্রদ্ধাশীল হোন, যারা তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং ভোটাররাও তার প্রতিশ্রদ্ধাশীল থাকুন’।
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, দেশ ও জাতির ঘাড়ে এক স্বৈরাচারি ও কর্তৃত্ববাদী শাসনের জগদ্দল পাথর চেপে বসেছে। সরকার ইচ্ছা করলেই তাদের এই দুঃশাসন অব্যাহত রাখতে পারবে না। এজন্য জনগণকে সাথে নিয়ে সকলকে রাজপথে নেমে আসতে হবে। আর এ আন্দোলন কোনো হঠকারী আন্দোলন হবে না বরং নিয়মতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে অপশাসন-দুঃশাসনের অবসান ঘটানো হবে।
আমিরে জামায়াত সরকারকে আত্মসমালোচনার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হয়। আমরাও ভুলত্রুটির ঊর্দ্ধে নই। তাই সরকারকে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ ও জাতির কোনো ক্ষতি না করে শান্তিপূর্ণভাবেই ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। বল প্রয়োগের চেষ্টা করলে তা তাদের জন্য মোটেই সুখকর হবে না। জনগণ অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম প্রমুখ।










