মধ্যপ্রাচ্যেকে একটি পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে পরমাণু অস্ত্র সমর্পণ ও জাতিসংঘের প্রস্তাবগুলো সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করার জন্য ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
গত বুধবার (৭ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটি হয়।
ভোটের ফলাফল ছিল ১৪৯-৬। ইসরায়েল, কানাডা, মাইক্রোনেশিয়া, পালাউ, যুক্তরাষ্ট্র ও লাইবেরিয়া এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। এতে ভারতসহ ২৬টি দেশ ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিল।
খসড়া প্রস্তাবে ১৯৯৫ সালের অপ্রসারণ চুক্তি দ্বারা গৃহীত মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত চুক্তির পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে অবিলম্বে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই চুক্তিতে পারমাণবিক অস্ত্রের পাশাপাশি অন্যান্য গণবিধ্বংসী অস্ত্রমুক্ত একটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল তৈরি করারো আহ্বান জানানো হয়েছিল।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করেছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই চুক্তিতে প্রবেশ করতে হবে ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি, উৎপাদন, পরীক্ষা ইত্যাদি বিষয় পরিত্যাগ করতে হবে। একই সাথে তার সমস্ত অনিরাপদ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) আয়ত্তে রাখতে হবে।
ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে এটি একটি অজানা বিষয় নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন দেশটির হাতে থাকা পরমাণু অস্ত্রের পরিমাণ কম নয়।
কিন্তু ইসরায়েল এ বিষয়ে কখনোই কোনো মন্তব্য করে না। তারা বিষয়টি যেমন স্বীকারও করে না, তেমনি অস্বীকার করেও না। দেশটি পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত কোনো সংস্থা বা চুক্তিতেও অংশ নেয়নি। পশ্চিমা বিশ্ব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের পরমাণু অস্ত্র তৈরির বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেও কোন এক অজানা কারণে ইসরায়েলের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কোনো আপত্তির কথা উচ্চারণ করে না।
জাতিসংঘ বিশ্বাস করে ইসরায়েলে পরমাণু অস্ত্র বিদ্যমান রেখে কখনোই পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর










