দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে রায়ের প্রতিবাদে আজ সারা দেশের জেলা ও মহানগরে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একই কর্মসূচি পালন করবে ঢাকা মহাগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (আগস্ট ৩) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঢাকার কর্মসূচিতে দলের স্থায়ী কমিটিসহ শীর্ষ নেতাদের অংশ নেয়ার কথা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার। বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে নির্যাতন নিপীড়ন ও হয়রানি করা হচ্ছে। জাতিকে চিরস্থায়ীভাবে সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। শুধু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে সাজার এ রায় দেয়া হয়েছে। এ রায় দিয়ে চলমান আন্দোলনকে স্তব্ধ করে দেয়া যাবে না।
চলমান আন্দোলন দমনে সরকার বিচার বিভাগকে ‘বড় অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে সরকার জনগণের যে মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকারগুলো রয়েছে তা পুরোপুরিভাবে হরণ করে নিচ্ছে। সেইসঙ্গে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, গণতন্ত্রের জন্য মানুষের যে সংগ্রাম, সেই সংগ্রামকে স্তব্ধ করে দেয়ার জন্য এই বিচার বিভাগকে দিয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে আজকে চরমভাবে হয়রানি-নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা, যিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য, গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য দীর্ঘ ৯ বছর সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছেন, সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে একটি মিথ্যা মামলা সাজিয়ে তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে এবং কারাগারে নেয়া হয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার যে, বিচারিক আদালতে তার (খালেদা জিয়া) সাজা হলো ৭ বছর, উচ্চ আদালতে আবার ১০ বছর সাজা দিয়েছে। অথচ একই ধরনের মামলায় আওয়ামী লীগের বহু নেতা জামিন পেয়েছেন। পরবর্তীকালে তারা খালাস পেয়েছেন এবং মন্ত্রিত্বও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল, সেগুলো দুর্নীতির একই ধরনের মামলা ছিল। সেগুলো ১/১১ সময়ে করা হয়েছিল। সেই মামলাগুলো তারা কৌশলের সঙ্গে বিভিন্ন বিচারক নিয়োগ দিয়ে আদালতে খারিজ করে নিয়েছেন। যে কারণে আমরা বলেছি, আসলে আদালত ও বিচার বিভাগকে তারা ব্যবহার করছেন একটা অস্ত্র হিসেবে তাদের ফ্যাসিবাদকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্যে।
তারেক রহমান ও জোবাইদা রহমানের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই রায় ঘোষণা করে তারা ভেবেছে যে, আমাদের যে একদফা দাবি আছে সেখান থেকে সরাতে পারবে। অর্থাৎ আমাদের মূল লক্ষ্য থেকে সরকার আমাদেরকে দূরে সরাতে চায়। অস্তিত্ব রক্ষার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, ঠিক সেই সময় এ আন্দোলনে যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এ রায় দেয়া হয়েছে। তবে এভাবে আন্দোলন কখনই স্তব্ধ করা যাবে না, বন্ধ করা যাবে না। দাবি আদায় না করে জনগণ ঘরে ফিরে যাবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন চলমান। এই আন্দোলন কখনোই কোনোভাবে তারেক রহমান সাহেবকে সাজা দিয়ে বা ডা. জোবাইদা রহমানকে সাজা দিয়ে, আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জেলে নিয়ে গিয়ে বন্ধ করা যাবে না। স্তব্ধ করা যাবে না। আন্দোলন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই আন্দোলনের বিজয় না দেখে ঘরে জনগণ কখনোই ফিরে যাবে না।
নূরের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বুধবার বাংলাদেশ গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরকে যে ভয়াবহভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র সামনে অমানবিকভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা তার ওপরে চড়াও হয়েছে, আক্রমণ করেছে, ভয়ঙ্করভাবে তাকে আহত করেছে। এর আগের রাতে তার বাসায় গোয়েন্দা শাখার লোকেরা গিয়ে, তার বাচ্চা ও স্ত্রীর সামনে যেভাবে ভাংচুর করেছে, তার ওপর আক্রমণ করেছে, এটা কোনো সভ্য দেশে চলতে পারে না।এই হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। রাজনীতিবিদদের চেহারা এ রকমই।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, নাসির উদ্দিন অসীম, নাজিম উদ্দিন আলম, সেলিমুজ্জামান সেলিম, হাসান জাফির তুহিন প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।










