আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত মাদ্রাসা ছাত্র হাফেজ রেজাউল করিম এর হত্যার প্রতিবাদ ও অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস।
আজ শুক্রবার (৪ আগস্ট) বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেইটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মাদ খালিদ সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান ও ঢাকা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা রাকিবুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী বলেন, আওয়ামী লীগ ত্রাসের শান্তির নামে তারা অশান্তি সৃষ্টি করে যাচ্ছে। তারা সকল সন্ত্রাসীদের গডফাদারে পরিণত হয়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডে দিন দিন প্রমাণ করছে তারা ইসলাম বিরোধী শক্তি। দৈনিক সমকাল নিউজ করেছে, শহীদ রেজাউল করিম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাসায় যাওয়ার পথে জামাত সন্দেহে তাকে হত্যা করা হয়। ইসলামী লেবাস পরা কী অপরাধ এই দেশে? আমরা বলতে চাই, হাফেজ রেজাউল করিমকে ইচ্ছাকৃত হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত। ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়াতে তা ঘটানো হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মোল্লা মুহাম্মাদ খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, এই সরকার সকল গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাই আন্তকোন্দলে জড়িয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। তাদের কোন্দলের বলি হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। শহীদ রেজাউল করিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এরই উদাহরণ হয়ে থাকবে। আমরা দুঃখজনকভাবে লক্ষ্য করেছি, আমাদের নিরপরাধ এই ভাইয়ের বিচারিক কার্যক্রমে ইচ্ছাকৃতভাবে ঢিলেমি করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকাণ্ড এখানে রহস্য জনক। তারা এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এটা প্রশাসনের দলীয় লেজুড়বৃত্তিতার প্রমাণ। তারা অপরাধীদের শুধু মাত্র সরকার দলীয় পক্ষের হওয়ার কারণে এখনো গ্রেফতার করেছে।
ছাত্র অধিকারের বিক্ষোভ সমাবেশে হামলা ও বিন ইয়ামিন মোল্লাকে গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলায় আমরা দেখেছি ছাত্র অধিকারের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রলীগ হামলা করে ভিপি নূরকে মারাত্মক আহত করেছে। তাদের ও প্রশাসন নিরাপত্তা দিতে পারেনি। প্রশাসনের জন্য এটা লজ্জাজনক অধ্যায় হয়ে রইল। এক দিকে খুনিদের গ্রেফতার করতে তারা অপারগ অপর দিকে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করে যাচ্ছে।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, যুব মজলিস ঢাকা মহানগরীর বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোর্শেদুল আলম, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীন ও মুহাম্মাদ আব্দুল আজিজ প্রমুখ।










