গত মাসের ১৫ জুলাই থেকে এ মাসের ১০ আগস্টের মধ্যে পশ্চিম তীরে ১৩ জন ফিলিস্তিনিকে শহীদ করেছে ইহুদীবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের দখলদার বাহিনী। যার মধ্যে ৩ জন শিশুও রয়েছে।
এবছর জুড়ে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে শহীদের সংখ্যা ১৬৭ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়-বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ)। যা গত বছরের পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর ১৫৫ জন ফিলিস্তিনি শহীদ হয় ইসরাইলি বাহিনীর হাতে।
গত ৪ আগস্ট রামাল্লার কাছে বুরকা গ্রামে একটি অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনী একজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে শহীদ করার পাশাপাশি দুইজনকে মারাত্মক ভাবে আহত করে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়-বিষয়ক কার্যালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তীর জুড়ে গত ২৫ জুলাই থেকে ৭ আগস্টের মধ্যে ইসরাইলি বাহিনী ২৭৬ জন ফিলিস্তিনিকে আহত করেছে যার মধ্যে ৬০ জন শিশুও রয়েছে।
এবছরের শুরু থেকে পশ্চিম তীর জুড়ে ৬৮৩ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে দখলদার বাহিনীর হাতে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩০৭ জন।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম ছয় মাসে অবৈধ দখলদারা ৫৯১টি এমন ঘটনার জন্ম দিয়েছে যা ফিলিস্তিনিদের সম্পত্তি ধ্বংসের পাশাপাশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
এছাড়াও ইসরাইলি সরকার পূর্ব জেরুসালেম ও পশ্চিম তীরের ব্লক ‘সি’তে বাড়ি তৈরীর অনুমতি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে ফিলিস্তিনিদের ৫৬ টি স্থাপনা ভেঙে দিয়েছে। যার মধ্যে ছয়টি বিল্ডিংও ছিল।
নির্মিত এসব স্থাপনা ভেঙে ফেলার ফলে ১২ জন শিশু সহ মোট ২৩ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এছাড়াও প্রায় সাড়ে তিন হাজার ফিলিস্তিনি জীবিকা নির্বাহের দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে ফিলিস্তিনিদের উপর নির্যাতনের রেকর্ড গণনা করছে জাতিসংঘ। যে পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২৩ সাল যেন ফিলিস্তিনি জনগণের উপর নির্যাতনের ভয়াবহ রূপ নেমে এসেছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











