spot_img
spot_img

ফিলিস্তিনের পানি নিয়ে ইসরাইলী বর্বরতা; পাশে দাড়ালো জাপান

ফিলিস্তিনিদের কোণঠাসা করে রাখতে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের নিয়মকানুন জুড়ে দেয় ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েল। যার অন্যতম একটি মাধ্যম হল ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত পানির উৎস ধ্বংস ও নিয়ন্ত্রণ করা। তবে এবার দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের পানি সরবরাহ ও উন্নয়নের জন্য একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ফিলিস্তিন ও জাপান।

ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মাদ শিতায়হের কার্যালয়ে স্বাক্ষরিত এ চুক্তি অনুযায়ী, জেনিন শহরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহযোগিতা দেবে জাপান।

এই প্রকল্পকে সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন জীবন যাপনের উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এছাড়াও দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে।

ফিলিস্তিনের পানিমন্ত্রী মাজেন ঘুনাইম জাপান সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ২০১৭ সালে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিয়ে প্রাথমিকভাবে এই প্রকল্পটি শুরু হয়।

তিনি বলেন, “আমরা পানিখাতে জাপান সরকারের কাছ থেকে আরো বেশি সহযোগিতা আশা করি । কারণ পানি শুধুমাত্র একটি মৌলিক সেবা বা সরকারি দায়িত্ব নয় বরং এটি এখানে একটি রাজনৈতিক সমস্যাও বটে। দখলদার ইসরাইলি কতৃপক্ষ ৮৫ শতাংশ পানির উৎস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আমাদের জনগণের ভাগ্যও নিয়ন্ত্রণ করছে। সুতরাং আমরা এই পানির প্রতিটি ফোটা ব্যবহারের মাধ্যমে ইসরাইলের সমস্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মোকাবেলা করে যেন এই ভূমিতে অবিচল থাকতে পারি।”

পানি নিয়ে ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরাইলি বর্বরতা:

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে জনপ্রতি প্রতিদিন পানির ব্যবহার হওয়া উচিত ৫০-১০০ লিটার। তবে উত্তর জর্ডান উপত্যকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনের পশুপালক সম্প্রদায়ের জনগণ জনপ্রতি মাত্র ২৬ লিটার পানি ব্যাবহারের সুযোগ পেয়ে থাকে। যা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ধার্য করা পরিমাণের অনেক কম। ফলে এই অঞ্চলটিকে একটি দুর্যোগপূর্ণ স্থান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অথচ জর্ডান উপত্যকায় বসবাসরত অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা প্রতিদিন গড়ে মাথাপিছু ৪০০-৭০০ লিটার পানি ব্যবহার করে থাকে।

জাতিসংঘের অঙ্গ সংগঠন ‘ইউএন ওসিএইচএ’ অনুযায়ী, গত দুই বছরে দখলকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমের ১৬০ টিরও বেশি জলাধার, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যাবস্থার জন্য খননকৃত ড্রেন ও কূপ ধ্বংস করেছে দখলদার ইসরাইল।

উল্লেখ্য; ধ্বংসের হার খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে: চলতি বছরের প্রথমার্ধ জুড়ে প্রায় একই সংখ্যাক পানির স্থাপনা ধ্বংস করেছে দখলদার কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ