spot_img

যে ভয়ানক দৃশ্য দেখা গেল আল শিফা হাসপাতালে

ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরায়েলের বোমা হামলায় বিপর্যস্ত গাজ্জা উপত্যাকা এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এর মধ্যে গাজ্জার আল শিফা হাসপাতালে দেখা মিলল মর্মান্তিক এক দৃশ্যের। দাফন কার্য সম্পন্ন না করার কারণে পড়ে থাকা মৃতদেহ গুলো ছিঁড়ে খেতে দেখা গেছে একদল কুকুরকে।

এমনটিই জানিয়েছেন দখলকৃত পশ্চিম তীরের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মাই আল-কাইলা।

আল শিফা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসা কর্মীদের সাক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের আঙিনায় দাফনের অভাবে ১০০ জন ফিলিস্তিনি শহীদের মৃতদেহ পড়ে ছিল। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতির ফলে সেখান থেকে বেশ কয়েকটি মৃতদেহ ভক্ষণ শুরু করে বিপথগামী কুকুরগুলো।

স্বাস্থ্য কর্মীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রশ্ন তুললে জানা যায় আরেক ভয়ানক ঘটনার।

এ বিষয়ে আল-কাইলা বলেন, আল শিফা হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মীদের মেডিকেল কমপ্লেক্স থেকে বের হয়ে ভবনের দিকে যেতে বাধা দিচ্ছে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী। সামান্য বের হলেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনীর পরিচালিত ড্রোন।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে মৃতদেহ সংরক্ষণ করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে জানান ফিলিস্তিনি মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, গাজ্জার হাসপাতালগুলোতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে চিকিৎসা ছাড়াই রোগীরা মৃত্যুবরণ করছে। আল শিফা হাসপাতালে আসতেও পারছেন না আহতরা। কারণ এ হাসপাতালটিকে ঘিরে রেখেছে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। তাই চিকিৎসা নিতে আসলে ইসরাইলি বাহিনীর বোমা হামলায় পুনরায় আহত হচ্ছেন এসব আহত ব্যক্তিরা।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ কেটে দেওয়ার ফলে আল শিফার ব্লাড ব্যাংক বিভাগটি নষ্ট হয়ে গেছে। যার ফলে আহত রোগীদের প্রয়োজনীয় রক্ত সরবরাহ করতে পারছেনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

তিনি আরো বলেন, অসুস্থ ও আহত ব্যক্তিদের পাশাপাশি চিকিৎসা কর্মীরাও তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। এছাড়াও হাসপাতালের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দখলদার বাহিনী।

আল-কাইলা বলেন, গাজ্জার আল রান্টিসি ও আল তুর্কি হাসপাতালে চিকিৎসারত ছিলেন ৩ হাজার অনকোলজি রোগী। তবে এসব রোগীদের জোরপূর্বক হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী। যার ফলে চিকিৎসা ছাড়াই একধরনের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে এসব ফিলিস্তিনিদের।

তিনি আরো বলেন, উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন গর্ভবতী মহিলারা। কারণ সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার মতো কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ