গাজ্জা উপত্যকায় চারদিনের মানবিক যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের জন্য একটি বড় বিজয় ছিল বলে ইতিমধ্যে মন্তব্য করেছিলেন বেশ কয়েকজন নেতা। এবার স্বয়ং ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো এ বিষয়টি স্বীকার করতে শুরু করেছে।
গাজ্জা উপত্যকায় চারদিনের মানবিক যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ইসরাইলকে নিপুণভাবে ব্যাবহার করছে হামাস ও সংগঠনটির নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বলে জানিয়েছেন দৈনিক সংবাদপত্র ইয়েদিওথ আহরোনোথের সামরিক বিষয়ক সাংবাদিক ইয়োসি ইহোশুয়া।
এ বিষয়ে ইহোশুয়া বলেন, ইসরায়েলের সাথে যুদ্ধ বিরতির চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারণ করেছে হামাস। কতজন ফিলিস্তিনি বন্দিকে ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে ও কাদের মুক্তি দিতে হবে তা ঠিক করেছে স্বাধীনতাকামী সংগঠনটি। এমনকি হামাসের হাতে থাকা কয়জন বন্দী ও কাদের কাদের মুক্তি দেওয়া হবে সে বিষয়টিও নির্ধারণ করা হয়েছে হামাসের পক্ষ থেকে।
তিনি বলেন, “আমরা কখন কি করছি তা দেখার জন্য আমাদের শত্রুরা চারদিক থেকে লক্ষ্য করছে আমাদের। তারা এটা দেখছে যে অল্প সংখ্যক বন্দিকে মুক্ত করার জন্য যুদ্ধের পরিবর্তে আমরা যুদ্ধবিরতিকে বেছে নিচ্ছি। এটাকে কোন প্রতিরোধ বলা যায় না। আমরা কীভাবে বন্দীদের মুক্তির জন্য যুদ্ধের বদলে যুদ্ধবিরতি পছন্দ করি ?”
এছাড়াও গাজ্জায় ইসরাইলি বাহিনীর ব্যার্থ যুদ্ধ কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ইহোশুয়া।
তিনি বলেন, ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজ্জার উত্তরাঞ্চলে আক্রমণ চালালেও দক্ষিণ অঞ্চলে অবস্থিত খান ইউনিস ও রাফাহ সীমান্তবর্তী এলাকায় কেন বড় স্থল অভিযান পরিচালনা করেনি ?
ইহোশুয়া বলেন, “সামরিক কর্মকর্তারা এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছে : যুদ্ধের ৫০ দিন পার হলেও এখনও যদি দক্ষিণ গাজ্জায় আক্রমণ না করা হয়, তাহলে আর কবে করা হবে ?
তিনি আরো বলেন, শনিবার ২য় দফায় বন্দীদের মুক্তির বিষয়ে দেরি করার সিদ্ধান্ত নেয় হামাস যা ইসরাইলের জন্য ছিল ব্যাপক অপমানজনক বিষয়।
ইসরাইলি বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, সর্বপ্রথম তাদের মিশরের সাথে সীমান্তবর্তী এলাকা রাফাহ দখল করতে হবে। রাফাহ নিয়ন্ত্রণের পর, যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি না দিলে গাজ্জার সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে বলে হামাসকে হুমকি প্রদান করতে হবে। এছাড়া এই যুদ্ধের কোন ফল পাওয়া যাবে না।
সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর











