শিক্ষার্থীদের চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ৯ দফা দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন সাধারণ আলেম সমাজ।
৩ আগস্ট (শনিবার) ১১ টায় রাজধানীর কাজলায় ‘আমারও কিছু বলার আছে’ শিরোনামে এক সংহতি সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন সাধারণ আলেম সমাজ।
সংহতি সমাবেশে বক্তারা বলেন, বিগত কয়েকদিনে স্বাধীন বাংলাদেশে স্মরণকালের ভয়াবহ ঘটনাবলিতে শতশত ছাত্র-জনতাকে হত্যা, জুলুম ও নির্যাতনের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সাধারণ আলেম সমাজ। গভীরতম বেদনা ও ক্ষোভের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করছি যে, কোটা সংস্কারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ, নিরস্ত্র, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর সরকার ও তাদের মদদপুষ্ঠ বাহিনী নজিরবিহীন সহিংস দমন পীড়ন চালিয়েছে। এতে দুই শতাধিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন, ছয় হাজারের উপর নাগরিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যার সংখ্যাগরিষ্ঠই সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রী এবং খেটে খাওয়া সাধারণ নাগরিক।

তারা বলেন, নিহতদের মধ্যে রয়েছে শিশু-কিশোর যাদের বয়স ৪-১৬ বছরের মধ্যে। এদের মধ্যে অনেকে নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে কত নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করেছে জনগণের নিরাপত্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিহতদের ৭৫ ভাগ শিশু, কিশোর ও তরুণ যাদের বেশিরভাগের শরীরেই প্রাণঘাতী গুলির ক্ষতচিহ্ন ছিল। এত অল্প সময়ে কোনো একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এমন বিপুল সংখ্যক হতাহতের নজির গত একশ’ বছরের ইতিহাসে আমাদের দেশে বা উপমহাদেশের অন্য কোথাও নেই।
তারা আরও বলেন, পুলিশের নির্বিচার গুলিতে নিরস্ত্র আন্দোলনকারী, পানি বিতরণকারী কিশোর, পলায়নরত ছাত্র ও ছাদে খেলতে যাওয়া শিশুর মৃত্যুর যে হৃদয়বিদারক বর্ণনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে তাতে স্পষ্ট যে বলপ্রয়োগ ও সহিংসতার মাত্রা সকল সীমা অতিক্রম করেছে এবং সাংবিধানিক ও আইনি সকল সুরক্ষা লঙ্ঘিত হয়েছে। গুলি করার ক্ষেত্রে পুলিশের আইন ভঙ্গ করা হয়েছে।
সাধারণ আলেম সমাজ বলেন, সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকার পরেও গুলি চালানো কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার না করে অপরাধী খুঁজে বেড়ানো এবং অপরাধীকে ধরিয়ে দেয়ার আহ্বান উপহাস বটে। এভাবে নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা, গণগ্রেপ্তার, অবৈধ আটক, নিপীড়ন ও নির্যাতন সংবিধানের ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৭, ৩৯ অনুচ্ছেদ, সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণা এবং বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য বিভিন্ন মানবাধিকার দলিলের (যেমন: ১৯৬৬ সালের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত চুক্তি, নির্যাতন বিরোধী চুক্তি) স্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্দোলন দমনে নির্বিচার হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারযোগ্য অপরাধ । শান্তির ধর্ম ইসলামে এ ধরণের ঘটনাকে জুলুম আখ্যায়িত করা হয়েছে। আর মহান আল্লাহ তায়ালা দুনিয়া ও আখিরাতে জুলুমকারীদের কঠিনতর শাস্তি দেবেন বলে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন।
তারা বলেন, এমন গুমোট ও সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষাঙ্গনকে নিরাপদ ও শিক্ষামুখী রাখতে সাধারণ আলেম সমাজের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের চলমান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও ৯ দফা দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছেন সাধারণ আলেম সমাজ। সংহতি সমাবেশ থেকে বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল, মাদ্রাসাসহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও দেশের আপামর জনসাধারণের কাছে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং সাধারণ আলেম সমাজের সুষ্পষ্ঠ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে দেশের চলমান সংকট থেকে উত্তরোণের পথ খুঁজতেই আমাদের এই আয়োজন।
সংহতি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কবি মুসা আল হাফিজ, শরিফ আবু হায়াত অপু, মুফতি রিদওয়ান হাসান, মুফতি আশরাফুল হক, মুফতি তানজীল আরেফিন আদনান, মাওলানা আশারফ মাহদী, রকিব মুহাম্মদ, জামিল সিদ্দিকী, উমারা হাবিব, কবি মহিম মাহফুজ, এহতেশামুল হক সাখী, ইউসুফ পিয়াস, জাবির মাহমুদ হাবিব, মাসউদুর রহমান।
এছাড়াও এতে দেশবরণ্যে সাধারণ আলেম সমাজ, শিক্ষক, লেখক-বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও এক্টিভিস্ট, ইমাম-খতিব ও দ্বীনি কমিউনিটি থেকে উঠে আসা সাধারণ দ্বীনি ভাইয়েরা উপস্থিত ছিলেন।











