আফগানিস্তানের ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানে সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের যে অভিযোগ, সেটিকে “গুরুতর” আখ্যা দিয়ে এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি। একই সঙ্গে পাকিস্তান থেকে আফগান অভিবাসীদের বহিষ্কারের পদ্ধতি নিয়েও সমালোচনা করেছেন তিনি।
সোহাইল আফ্রিদি বলেন, “আফগানিস্তানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোরও সীমান্ত আছে, কিন্তু তারা এ ধরনের অভিযোগ করেনি। যদি দাবি করা হয় যে আফগান ভূমি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে, তাহলে প্রমাণ দেখাতে হবে। সরকারকেই তা করতে হবে।”
আফ্রিদি বলেন, পাকিস্তানে আইনগতভাবে প্রবেশ করা বহু আফগান অভিবাসী কাজ করছেন এবং দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, কিন্তু তাদেরও কঠোরভাবে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা বৈধভাবে এসেছে, কাজ করছে এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান তৈরি করেছে, তাদের জোর করে বহিষ্কার করা হচ্ছে। এখানে ‘ভালো’ ও ‘মন্দ’ আফগান বলে বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি আছে; নীতি হওয়া উচিত এক ও একই।”
এদিকে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, আফগান ভূমি ব্যবহার করে সন্ত্রাসে জড়িতদের বিষয়ে “অখণ্ডনীয় প্রমাণ” রয়েছে এবং এ ধরনের বক্তব্য পরিহার করা উচিত।
তালাল চৌধুরীও আফ্রিদির বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন এবং বলেন, সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে “দ্ব্যর্থতা” ছড়ানো সহ্য করা হবে না। পাকিস্তানের পার্লামেন্টবিষয়ক মন্ত্রী ডা. তারিক ফজল চৌধুরীও আফ্রিদির বক্তব্যকে “কাঁটা ঘায়ে লবণ ছিটানো” বলেই উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা ধারাবাহিকভাবে পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলে আসছেন, আফগান ভূমি কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেওয়া হবে না। একই সময়ে আফগান শরণার্থী ও অভিবাসী প্রত্যাবাসন ইস্যুতেও আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে; জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার ফলে বিপুলসংখ্যক আফগান ফেরত যেতে বাধ্য হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সূত্র : তুলো নিউজ, ডন, রেডিও পাকিস্তান











