আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। তিনি বলেন, দেশে সশস্ত্র হামলা দ্রুত বাড়ছে, এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের অঙ্গীকারে অটল আছে। এদিকে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পাক তথ্যমন্ত্রী তারার বলেন, “ভারতে আফগান কর্মকর্তাদের বারবার যাতায়াত পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে একটি বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এজেন্ডার অংশ।” তিনি আফগানিস্তান ও ভারতের সম্পর্ক বৃদ্ধিকে পাকিস্তানের ভেতরের সশস্ত্র সহিংসতার সঙ্গেও যুক্ত করে দেখান।
তারার এই ধরনের সম্পৃক্ততার প্রকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং দাবি করেন, এর সঙ্গে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে সশস্ত্র সহিংসতার যোগ আছে। তবে ভারত ও আফগানিস্তান বারবার পাকিস্তানের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে যে তারা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে।
তারারের মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে বলা হয়, গত বছর আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী, বাণিজ্যমন্ত্রী নূরুদ্দিন আজিজী এবং জনস্বাস্থ্যমন্ত্রী নূর জালাল জালালী ভারত সফর করেন। ২০২১ সালের পর নয়াদিল্লির সঙ্গে এটিই আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের বড় ধরনের সম্পৃক্ততার মধ্যে অন্যতম বলে উল্লেখ করা হয়।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটিতে ৫,৩৯৭টি সশস্ত্র তৎপরতা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়ায় ৩,৮১১টি এবং বেলুচিস্তানে ১,৫৫৭টি ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ৭৫,০০০টির বেশি গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়েছে এবং ২,৫৯৭ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়।
তারার বলেন, সরকার সন্ত্রাসবাদের সব ধরনের রূপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সশস্ত্র তৎপরতা বাড়তে থাকলেও পাকিস্তানের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
এদিকে, আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব স্টাফ মুহিবুল্লাহ ওয়াসিক সোমবার গভীর রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইমারাতে ইসলামিয়ার ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পারস্পরিক সম্মানের নীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ দেশটির পররাষ্ট্রনীতির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
ওয়াসিকের মতে, ইমারাতে ইসলামিয়ার শাসনামলের চার বছর পর সম্পর্কের এই নতুন পর্যায় দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার, বাণিজ্য উন্নয়ন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সংহত এবং যৌথ স্বার্থ সুরক্ষিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
সূত্র : আরিয়ানা নিউজ











