শনিবার | ১৭ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

নির্বাচনের আগে ভেঙে পড়া সমঝোতা ঠিক হয়েও যেতে পারে : মাওলানা মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, নিজেদের নানা ব্যর্থতার কারণে ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত টিকেনি। তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই, ভেঙে পড়া সমঝোতা ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আর বসা হবে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়কে জামায়াত আমীরের এমন আশ্বাসের বক্তব্যে তিনি কোনো অসংগতি দেখেন না। ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন ১০ দলের সমঝোতার আলোকে বণ্টন হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) গণমাধ্যমকে বক্তব্য দেন মাওলানা মামুনুল হক। একই দিন বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি শরিয়া আইন প্রসঙ্গসহ আরও বক্তব্য দেন। এর আগে তিনি জামায়াতের নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

এর আগে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয়। তাদের সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করবে না এবং সমঝোতার নির্বাচনের দিকে জামায়াতে ইসলামী এগোচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে জামায়াতের কাছ থেকে দলীয়ভাবে অপমানের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, নিজেদের নানা ব্যর্থতার কারণে ১১ দলীয় জোট শেষ পর্যন্ত টিকেনি। তিনি আরও বলেন, জোট ভাঙার পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র এখনো দেখছি না। শেষ পর্যন্ত সবাই মিলে একসঙ্গে নির্বাচন করতে না পারাকে নিজেদের ব্যর্থতা বলেই ধরে নেওয়া যায়।

তিনি বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। ভেঙে পড়া সমঝোতা ১২ ফেব্রুয়ারির আগে ঠিক হয়ে যেতে পারে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আর বসা হবে না। পরে আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই, তবে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে শরিয়া আইন নিয়ে অভিযোগের ব্যাখ্যা জানতে চাইলে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জামায়াত আমীরের কথার মূল অর্থ হলো, যে প্রক্রিয়ায় বর্তমানে দেশ চলছে, নির্বাচন হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্য দিয়ে রাজনীতির ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় এক দফার মধ্য দিয়ে হঠাৎ করে একদিনেই শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, সেটিই জামায়াত আমীর বলেছেন। তিনি বলেন, এ কথার মধ্যে কোনো অসংগতি নেই। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, শরিয়া আইনের বিষয়ে জামায়াত আমীরের বক্তব্য ভুল বুঝেছে ইসলামী আন্দোলন।

ইসলামী আন্দোলন সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আগামী নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, সম্মিলিতভাবে ঐক্যের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই অঙ্গীকার থেকে সরে যায়নি দলগুলো। তাই খুব বেশি প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না।

ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় ফাঁকা থাকা ৪৭টি আসন ১০ দলের সমঝোতার আলোকেই বণ্টন হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, শুরু থেকে যে প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হয়েছে, ইসলামী আন্দোলন না আসায় সমঝোতার ভিত্তিতে একই প্রক্রিয়ায় আসন বণ্টন হবে। যে আসনে যে দলের প্রার্থীকে সবচেয়ে শক্তিশালী মনে করা হবে, তাকেই একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সমঝোতা হওয়া আসনগুলোতে যে দলের প্রার্থী থাকবে, তিনি বাদে বাকিরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সেটি প্রত্যাহার করা হবে। তিনি বলেন, ১৯ জানুয়ারির আগে অন্য কোনো কিছুর সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনের পরে তারা ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ধরে নিয়েই ১০ দল কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলের মধ্যে থাকা ইসলামপন্থি দলগুলো ঠিক পথে আছে কি না, এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে উল্লেখ করে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দল ঠিক পথেই আছে। তিনি বলেন, সবার অনুভূতি এক হয় না, অন্যের অনুভূতিকে শ্রদ্ধা জানায় তাদের দল।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ