বৃহস্পতিবার | ২২ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন ও ছুটি নির্ধারণ করে দিল সরকার

মসজিদের খতিবসহ অন্যান্য জনবলের বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত সোমবার ‘মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নীতিমালা প্রণয়নে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। এটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে এই কমিটি। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই নীতিমালায় দেশের মসজিদগুলোতে খতিব ছাড়া অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। তবে আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। এই নীতিমালায় সিনিয়র পেশ ইমামকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ এবং ইমামকে ৯ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে ১০ম, মুয়াজ্জিনকে ১১তম, প্রধান খাদেমকে ১৫তম ও খাদেমকে ১৬তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুযায়ী সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া চাকরি শেষে এককালীন সম্মাননা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটিও সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়। এতে বলা হয়েছে, কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ চার দিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা। এ ছাড়া পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে এক দিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।

এই নীতিমালা অনুসারে মসজিদের কোনো পদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। এই কমিটির সুপারিশ ছাড়া কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা যাবে না। এ ছাড়া মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বাবলি ও চাকরি-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে নিয়োগপত্র প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।

২০২৫ সালের এই নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ছাড়া নারীদের জন্য মসজিদে শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান রাখার বিষয়ে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় এই কমিটির সদস্যসংখ্যা কমবেশি করার বিধান রাখা হয়েছে।

চাকরির বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিংবা সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। এ ছাড়া নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রাখা হয়েছে। এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ