মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে সিরীয় সেনাবাহিনী। কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সিরিয়ান আরব আর্মির সদস্যরা হাসাকা প্রদেশের আল-শাদ্দাদি সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে।
২০১৬ সালে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনী আইএসআইএলের (আইএসআইএস) কাছ থেকে এলাকা দখল করার পর থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল আমেরিকা। গত বৃহস্পতিবার সিরীয় সেনাবাহিনী ইরাক ও জর্ডান সীমান্তবর্তী আল-তানফে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণও নেয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সাংবাদিকদের বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন ‘ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে’। কয়েকটি দিন খুবই উদ্বেগজনক ছিল, তবে সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি আমরা ইতিবাচক মনে করছি। এখন মূল বিষয় হচ্ছে চুক্তির বাস্তবায়ন এবং এ ক্ষেত্রে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত থাকব।
তিনি বলেন, দেশটির দ্রুজ, বেদুইন ও আলাওয়াইট সম্প্রদায়ের সঙ্গেও অনুরূপ সমঝোতা প্রয়োজন। রুবিও বলেন, যত কঠিনই হোক, বর্তমান ফলাফল সেই সিরিয়ার চেয়ে অনেক ভালো, যেটি হয়তো আট টুকরো হয়ে যেত, চারদিকে সংঘাত ও ব্যাপক অভিবাসন দেখা দিত।
আলজাজিরার আলেপ্পো প্রতিনিধি হেইডি পেট জানান, আল-শাদ্দাদি এলাকার বাসিন্দারা সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ঘাঁটির ভেতরে বিস্ফোরণের শব্দ ও আগুনের শিখা দেখেছেন। আমেরিকানরা কয়েক সপ্তাহ ধরেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং অবশিষ্ট সামগ্রী ধ্বংস করছিল।
তিনি বলেন, এটি অঞ্চলে মার্কিন কৌশলের বৃহত্তর পরিবর্তনের অংশ, যেখানে সরাসরি সিরীয় সরকারের সঙ্গে অংশীদারিত্বের দিকে ঝুঁকছে ওয়াশিংটন।
কয়েক মাস ধরে সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো হচ্ছে। জুলাইয়ে যেখানে মার্কিন সেনা সদস্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন, কিন্তু বর্তমানে তা কমে প্রায় ৯০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন বাহিনী জর্ডানের টাওয়ার ২২ ঘাঁটিতে তাদের স্থল উপস্থিতি একীভূত করছে। তবে তারা এখনো সিরিয়ায় আইএসআইএল লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সেন্টকম জানিয়েছে, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে ১০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে এবং গত দুই মাসে ৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে হত্যা বা আটক করা হয়েছে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, আমেরিকার বাহিনী আইএসআইএসের যে কোনো উদ্ভূত হুমকির জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।











