ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল ও আমেরিকার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২০টির বেশি হামলা চালিয়েছে দেশদুটি। এমনটিই জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস।
তিনি বলেন, ১ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ইরানে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ২০টির বেশি হামলা হয়েছে, এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একজন সদস্য রয়েছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
তিনি জানান, তেহরানে ইরানের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। পাস্তুর ইনস্টিটিউট গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেবা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
টেড্রোস বলেন, এই ইনস্টিটিউট জরুরি পরিস্থিতিসহ জনস্বাস্থ্য রক্ষা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডব্লিউএইচও প্রধান আরও জানান, দেলারাম সিনা মানসিক হাসপাতাল এবং তোফিঘ দারু ফার্মাসিউটিক্যাল কারখানাও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর নেই। খুজেস্তান প্রদেশের ইমাম আলি হাসপাতালের কাছে একটি বিস্ফোরণের ফলে হাসপাতালটি খালি করে দিতে হয় এবং সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
একই সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনাগুলোর ওপর আমেরিকা-ইসরাইলের হামলার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়েছে ডব্লিউএইচও।
তেহরানের প্রাচীনতম গবেষণা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি পাস্তুর ইনস্টিটিউটে হামলার পর এই সতর্কতা জারি করা হয়।
এর আগে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক্সে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ছবি প্রকাশ করেন।
তবে ইরানের বার্তা সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, এসব হামলার পরও পাস্তুর ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। তারা বলেছে, টিকা ও সিরাম উৎপাদন চালু রয়েছে। একই সঙ্গে টেলিগ্রাম বার্তায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক হামলায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কর্মী হতাহত হননি।
সূত্র: আল জাজিরা











