ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর ১ বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
তিনি অভিযোগ করেছেন, যে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ওপর ভর করে বিজেপি সরকার পরিচালিত হচ্ছিল, তা এখন ভেতর থেকেই দুর্বল হয়ে পড়ছে।
শুধু তাই নয়, নিজের গদি বাঁচাতে মোদি জরুরি অবস্থার মতো কোনো পন্থাও নিতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাহুল গান্ধী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) নয়াদিল্লিতে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অসন্তোষ বাড়ছে দাবি করে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘দেশে প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে একটা সংঘবদ্ধ ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। যে নির্বাচন কমিশনকে মোদি কুক্ষিগত করে রেখেছেন বলে মনে করেন, সেই নির্বাচন কমিশনারের অফিস থেকে আমার কাছে মেসেজ আসে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থার মাথারা আমাকে নিয়মিত বার্তা পাঠাচ্ছেন।’
এরপরই রাহুল গান্ধী বিস্ফোরক দাবি করে বলেন, ‘ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং তাদের সন্তানদের সম্পর্কে একের পর এক তথ্য আমার কাছে আসছে। এটি একটি বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অস্থিরতার ইঙ্গিত।’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাহুল গান্ধী।
তিনি বলেন, ‘এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক সুনামি ধেয়ে আসছে, যা থামানোর সাধ্য কারও নেই। আর এর নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি কর্তৃক আন্তর্জাতিক অর্থনীতির অস্থিরতা মোকাবিলার লক্ষ্যে ভারতের শক অ্যাবজরবার বা রক্ষাকবচগুলো ধ্বংস করে ফেলা। ফলে পণ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণের ক্ষোভ তৈরি হবে, যা সামাল দিতে সরকার দেশে জরুরি অবস্থার মতো কড়া পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে।’
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, ‘মোদি ভয়ংকর অস্বস্তির মধ্যে রয়েছেন। কারণ তিনি জানেন, বছরের পর বছর ধরে যে সিস্টেম তিনি নিয়ন্ত্রণ করেছেন, সেটা এবার ভেঙে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জনরোষ থেকে বাঁচতে জরুরি অবস্থার মতো কিছু কার্যকর করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। তবে আমার হিসেবে নরেন্দ্র মোদি আর ১ বছরও প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।’
প্রসঙ্গত, ভারতের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যদিও তখন অর্থনৈতিক সংকটও ছিল।
তবে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সম্প্রতি দাবি করে আসছে, লিখিত নির্দেশিকা জারি না হলেও নরেন্দ্র মোদির আমলে দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি বহাল রয়েছে। নতুন করে রাহুল গান্ধীর এই বক্তব্য সেই দাবিরই প্রতিফলন।
এদিকে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি, বিজেপি।
দলটির নেতারা তার বক্তব্যকে ‘অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং রাহুল গান্ধীকে ‘প্রোপাগান্ডা বা অপপ্রচারের নেতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।











