বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু প্রতারক এবং বিএনপি জুলাই সনদকে কলঙ্কিত করেছে। গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হলে, যে পথে শেখ হাসিনা গেছে, সে পথেই তারেক রহমানকেও যেতে হবে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য, ময়মনসিংহ বিভাগের উদ্যোগে বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, গত ১৫ বছর বিএনপির নেতৃত্বের ব্যর্থতার ফলেই দেশের অসংখ্য যুবক প্রাণ দিয়েছে। ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ঘিরে আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মানুষ রক্ত দিয়েছে। সেই রক্তের সাগর পেরিয়েই ৫ আগস্ট দেশের মানুষ নতুন স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছে।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার পক্ষে রায় দিয়েছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। সেই গণরায়ের শান্তিপূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
খেলাফত মজলিসের আমীর অভিযোগ করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে দীর্ঘ আলোচনার পর রাজনৈতিক দলগুলো যে সংস্কার প্রস্তাবে একমত হয়েছিল, বিএনপি অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে সমঝোতা করে তা নষ্ট করেছে।
তিনি বিএনপির উদ্দেশে বলেন, জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে কোনো ‘চোরাই পথ’ অবলম্বন করা হলে সেটি দলটির জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের রায় নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে চাইলে শেখ হাসিনার যে পরিণতি হয়েছে, তারেক রহমানেরও ভিন্ন পরিণতি হবে না। বিএনপি যদি পাকিস্তানের স্বৈরশাসক ও শেখ হাসিনার পথ অনুসরণ করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলার মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামে তারা কোনো কঠিন পথ অবলম্বন করতেও পিছপা হবেন না। ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং জনগণের সম্মান ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা নেতা রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।











