spot_img

ইরাকে খামেনির জানাজা আমেরিকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরান-ইরাকের ঐক্য সুদৃঢ় করবে: ইসমাইল কানি

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কানি বলেছেন, শহীদ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলি খামেনির ইরাকে অনুষ্ঠিত জানাজা ইরান ও ইরাকের জনগণের পারস্পরিক সংহতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমেরিকার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দুই জাতির ঐক্যবদ্ধ অবস্থানকে সুদৃঢ় করবে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রকাশিত এক বার্তায় কানি বলেন, নাজাফ ও কারবালায় অনুষ্ঠিতব্য এই জানাজা শুধু দুই দেশের জনগণের ঐক্যই গভীর করবে না, বরং প্রতিরোধ আন্দোলনের শহীদ নেতাদের ন্যায়বিচারের দাবিকেও আরও জোরালো করবে।

তিনি বলেন, ঐতিহাসিক এই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ইরাকের সরকারের উদ্যোগ এবং দেশটির জনগণের ব্যাপক প্রস্তুতি ইরান ও ইরাকের গভীর আধ্যাত্মিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন।

কানি আরও উল্লেখ করেন, আয়াতুল্লাহ খামেনির সমর্থন এবং ইরাকের ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা দেশটিতে আইএসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

২০২০ সালে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে আমেরিকার হামলায় নিহত আইআরজিসির সাবেক কুদস ফোর্স প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকের জনপ্রিয় স্বেচ্ছাসেবী বাহিনীর উপপ্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিসের প্রসঙ্গ টেনে কানি বলেন, তারা দুই দেশের জন্যই আত্মত্যাগের অভিন্ন প্রতীক।

তিনি দাবি করেন, খামেনির শেষকৃত্যও সোলাইমানি ও আল-মুহান্দিসের জানাজার মতোই আমেরিকাবিরোধী প্রতিরোধকে আরও শক্তিশালী করবে।

এদিকে, কারবালার গভর্নর ও প্রদেশের উচ্চ নিরাপত্তা কমিটির প্রধান নাসিফ জাসিম আল-খাত্তাবি জানিয়েছেন, জানাজা উপলক্ষে নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

ইরাকি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, অনুষ্ঠানটি দেশটির সরকার ও জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ফেডারেল সামরিক বাহিনী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার সঙ্গে একাধিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার থেকে শোকাহত মানুষ ও বিভিন্ন প্রতিনিধি দল কারবালায় আসতে শুরু করবে। নিরাপত্তা, পরিবহন ও জনসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জানাজা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান গভর্নর। প্রথম ধাপে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা, দ্বিতীয় ধাপে বুধবার নাজাফে জানাজার শোভাযাত্রা এবং শেষ ধাপে একই দিন বিকেলে কারবালায় চূড়ান্ত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে ইরাকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে বুধবার কারবালা প্রদেশে সরকারি ছুটিও ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশেষ মিডিয়া কমিটির মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাদমান জানান, নাজাফে শোভাযাত্রার পথ আল-সাদরাইন ওভারপাস থেকে ইমাম আলীর মাজার পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার এবং কারবালায় প্রায় ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে।

অংশগ্রহণকারীদের জন্য নাজাফে ৩৫১টি, কারবালায় ৪০০টির বেশি সেবাকেন্দ্র এবং শোভাযাত্রার পথে ১৫০টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র: প্রেস টিভি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ