দোহা চুক্তির আওতায় দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি ইমারাতে ইসলামিয়া পূরণ করেছে বলে জানিয়েছেন আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সভাপতি এবং দোহা চুক্তিতে ইমারাতে ইসলামিয়ার আলোচক দলের সদস্য শাহাবুদ্দিন দিলাওয়ার। বিশেষ করে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। একই সঙ্গে আফগান ভূখণ্ড থেকে যেন কোনো দেশের ক্ষতি না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আফগানিস্তান কখনোই অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি। ইমারাতে ইসলামিয়া তার সব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।’
শনিবার (১ আগস্ট) আফগান সংবাদমাধ্যম তোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা দিলাওয়ার বলেন, দোহা চুক্তি বাস্তবায়নের সময় মতবিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান বাহিনী প্রত্যাহারের সময়সীমা। আমেরিকা প্রথমে বলেছিল, তারা ১৪ মাসের মধ্যে সেনা প্রত্যাহার করবে। কিন্তু পরে সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইমারাতে ইসলামিয়া দোহা চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেছে বলে জোর দিয়ে আসছে। তবে আমেরিকা নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নীতিসংক্রান্ত পরিস্থিতির আলোকে এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন এখনো মূল্যায়ন করছে।
ফ্রান্সে নিযুক্ত আফগানিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত ওমর সামাদ বলেন, ‘এর জন্য কে দায়ী, তা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংলাপের একটি প্রক্রিয়া শুরু না করে এ সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। ওই সংলাপের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে হবে, কে চুক্তি লঙ্ঘন করেছে, কীভাবে করেছে এবং কোন পরিস্থিতিতে করেছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ এবাদুল্লাহ সাদিক বলেন, ‘আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলো মানবাধিকারের মতো বিভিন্ন বিষয়ে আফগানিস্তান বা ইমারাতে ইসলামিয়ার সমালোচনা করে। তারা বলে, মানবাধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ দেশে নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি কাতারের রাজধানী দোহায় আমেরিকা ও আফগানিস্তানের ইমারাতে ইসলামিয়ার মধ্যে দোহা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। আমেরিকার পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন আফগানিস্তান পুনর্মিলনবিষয়ক দেশটির সাবেক বিশেষ প্রতিনিধি জালমাই খলিলজাদ। ইমারাতে ইসলামিয়ার পক্ষে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদার। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে কাতারসহ আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: তোলো নিউজ










