spot_img

পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনা নয়, স্বাভাবিক সম্পর্ক চায় আফগানিস্তান

ইমারাতে ইসলামিয়া কোনো দেশের সঙ্গে, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে, উত্তেজনা অব্যাহত রাখতে চায় না বলে জানিয়েছেন আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জবিহুল্লাহ মুজাহিদ।

তিনি বলেন, কাবুল দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা উভয় পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

শনিবার (১ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাওলানা মুজাহিদ বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়ার পররাষ্ট্রনীতির অংশ হিসেবে কাবুল সব দেশের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনাও আফগানিস্তান শুরু করেনি।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, গত বছরের শুরুতে পাকিস্তান সীমান্তপথগুলো বন্ধ করে দেয় এবং এমন কিছু নীতি গ্রহণ করে, যা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য উপযুক্ত ছিল না। এতে সমস্যা সৃষ্টি হয় এবং আফগানিস্তান প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের সূচনা করিনি। দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি হোক, তাও আমরা চাই না। বিশেষ করে অর্থনীতি ও বাণিজ্যের মতো মানবিক বিষয়গুলোতে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকা জরুরি।’

এদিকে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে মতবিরোধ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের কিছু কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পক্ষ থেকেও দেশটির নীতির সমালোচনা বেড়েছে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির শাসনব্যবস্থাকে ‘সেকেলে ও অকার্যকর’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তার এ বক্তব্যের সঙ্গে অনেকাংশে একমত পোষণ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

তবে খাজা আসিফ বলেন, সংস্কার নিয়ে কাজ করার যথাযথ জায়গা হলো পার্লামেন্ট ও মন্ত্রিসভা, ব্যবসায়িক ফোরাম নয়।

সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি বলেন, ‘পাকিস্তানের নেতারা যদি ব্যর্থ ও অকার্যকর দেশি-বিদেশি নীতি অনুসরণ না করে নিজেদের দেশকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দেন, তাহলে দেশটির অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা কমতে পারে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মুহাম্মাদ আকরাম আরেফি বলেন, ‘দুই দেশের জনগণ পারস্পরিক সম্পর্কে উত্তেজনা চায় না। সরকারি নেতারা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেন, তাহলে দ্রুত শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক ফিরিয়ে এনে উত্তেজনা কমানো উচিত।’

এর আগেও পাকিস্তানের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আফগানিস্তানের প্রতি ইসলামাবাদের নীতির সমালোচনা করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, শক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনার সমাধান করা উচিত।

সূত্র: তোলো নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ