spot_img

আমেরিকা চাইলে আফগানিস্তানে বিনিয়োগ করতে পারে: মাওলানা মুত্তাকী

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান বাহিনী প্রত্যাহার এবং ইমারাতে ইসলামিয়ার পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পর, কাবুলে মার্কিন দূতাবাস পুনরায় চালু এবং দেশটির খনিজ সম্পদ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলানা আমীর খান মুত্তাকী।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যুদ্ধের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। আমেরিকা কাবুলে নিজেদের দূতাবাস পুনরায় খুলতে পারে, কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারে এবং আফগানিস্তানের খনি, বাঁধ ও সড়কে বিনিয়োগ করতে পারে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) প্রকাশিত দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মুত্তাকী বলেন, আফগানিস্তান এখন আমেরিকার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক এবং সম্পৃক্ততার নতুন একটি পর্যায় চায়।

তবে আফগানিস্তানে আবারও আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির যেকোনো সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, আফগানরা নিজেদের ভূখণ্ডে বিদেশি সেনাদের উপস্থিতি মেনে নেবে না।

এমন এক সময়ে এ আহ্বান জানানো হলো, যখন ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কমানো এবং কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইমারাতে ইসলামিয়া রাশিয়া, উজবেকিস্তান ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। একই সঙ্গে আফগান অভিবাসীদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে ইউরোপীয় সরকারগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে আকর্ষণীয় একটি বিষয় হতে পারে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক স্বার্থের ওপর তাদের গুরুত্ব দেওয়ার কারণে।

আফগানিস্তানের খনি খাত উন্নয়নের চেষ্টায় ২০০৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছিল আমেরিকা। তবে পরে আমেরিকার একটি সরকারি নজরদারি সংস্থা সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ওই প্রচেষ্টায় খুব সামান্যই দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে।

এরপর থেকে ইমারাতে ইসলামিয়া চীন, ইরান ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের কোম্পানির সঙ্গে খনি ও বিনিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রবিন রাফেল বলেন, আমেরিকা নতুন করে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে ওয়াশিংটন দেশটির খনিজ সম্পদে আরও বেশি প্রবেশাধিকার পেতে পারে এবং মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কও জোরদার করতে পারে।

রাফেল বলেন, ‘কিন্তু এর জন্য কাবুলে আমেরিকার উপস্থিতির মাধ্যমে সরাসরি ও সক্রিয় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। আর ওয়াশিংটনে এ বিষয়টি গ্রহণযোগ্য করে তোলা এখনও কঠিন।’

সূত্র: আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ