spot_img
spot_img

নতুন চুক্তিতে তুরস্কের স্বাক্ষর, আগামী বছর চাঁদে মহাকাশযান পাঠানোর পরিকল্পনা

শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ উপায়ে মহাকাশ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার লক্ষ্যে করা আর্টেমিস চুক্তিতে ৭১তম দেশ হিসেবে স্বাক্ষর করেছে তুরস্ক।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যায় আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটনে নাসার সদর দপ্তরে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন তুরস্কের শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মুহাম্মদ ফাতিহ কাচির।

মুহাম্মদ ফাতিহ কাচির বলেন, মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে তুরস্ক অসাধারণ লক্ষ্য ও সক্ষমতা নিয়ে নতুন একটি পর্যায়ে প্রবেশ করছে। মহাকাশে তুরস্কের স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং মানবতার কল্যাণে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২০২৭ সালের প্রথম কয়েক মাসের মধ্যে হাইব্রিড ইঞ্জিনচালিত একটি মহাকাশযান চাঁদে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে তুরস্ক। এর মাধ্যমে চাঁদের কক্ষপথ থেকে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি মহাকাশ অর্থনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে সোমালিয়ায় একটি মহাকাশবন্দর নির্মাণের কাজও শুরু করেছে তুরস্ক।

আর্টেমিস চুক্তি কী?

আর্টেমিস চুক্তি ১৯৬৭ সালের মহাকাশ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। বরং মহাকাশ অনুসন্ধানকে দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনার জন্য বহুপক্ষীয় নীতি ও নিয়মের ঘোষণা হিসেবে পরিচিত।

চুক্তিতে মহাকাশে পাঠানো বস্তু নিবন্ধন, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সংঘাত এড়ানো, বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তির আওতায় আমেরিকা চাঁদের পৃষ্ঠে একটি স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছে। ভবিষ্যতে এটিকে মঙ্গলগ্রহে যাওয়ার অভিযানের জন্য মধ্যবর্তী স্টেশন এবং মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের স্থান হিসেবেও ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর আমেরিকা, কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, লুক্সেমবার্গ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথম দেশ হিসেবে আর্টেমিস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।

কী কী সুবিধা পাবে তুরস্ক?

তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিতে স্বাক্ষরের ফলে তুরস্ক আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশীদার দেশ হিসেবে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে দেশটির বিকাশমান মহাকাশ শিল্পকে বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

২০২২ থেকে ২০৩০ সময়কালের তুরস্কের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির কৌশলগত নথিতে নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও আর্টেমিস চুক্তি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে মহাকাশ প্রযুক্তি ও শিল্পে দেশের স্থানীয় ও জাতীয় সক্ষমতা বাড়াতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য রয়েছে ওই নথিতে।

তুরস্কের লুনার রিসার্চ প্রজেক্টের আওতাধীন সহযোগিতামূলক প্রকল্পগুলোতেও চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তুরস্কের মহাকাশ সংস্থা এবং দেশটির বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত গবেষণা কাউন্সিলের মহাকাশ প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান তুবিতাক উজায় যৌথভাবে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এটি চাঁদের উদ্দেশে তুরস্কের প্রথম মহাকাশ অভিযান।

এ ছাড়া মহাকাশ ও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ন্যাটোর সঙ্গে চলমান সহযোগিতামূলক প্রকল্পগুলোতেও এ চুক্তি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: টিআরটি আরবি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ