spot_img
spot_imgspot_img

দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের

দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়ে লেবাননের প্রতিরোধ সংগঠন হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ অবকাঠামো ধ্বংস করার দাবি করেছে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, ওই এলাকায় দুই কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে সেখানে কথিত নিরাপত্তা বলয় প্রতিষ্ঠার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব দাবি করেন। তারা বলেন, আলি আল-তাহের পাহাড়ের ওপরে ও নিচে পূর্ণাঙ্গ সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

ইসরাইলের দাবি, হিজবুল্লাহ যাতে ওই এলাকায় পুনরায় অবস্থান গড়ে তুলতে বা সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে না পারে, সে জন্য ইসরাইলি বাহিনী সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখবে। রয়টার্স জানিয়েছে, আলি আল-তাহের ইসরাইলি সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি কৌশলগত এলাকা।

ইসরাইলি বাহিনী আরও দাবি করেছে, পাহাড়ের নিচের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি হিজবুল্লাহর বদর ইউনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে অস্ত্রের মজুত, কমান্ডকেন্দ্র ও দীর্ঘ সময় অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় স্থাপনা ছিল বলে জানিয়েছে তারা।

ইসরাইলের দাবি অনুযায়ী, ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো গত দুই দশকে ইরানের অর্থায়ন ও পরিকল্পনায় নির্মিত হয়েছিল। সেখানে ইরানে তৈরি রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন বিমান, ট্যাংকবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও মাইন পাওয়া গেছে বলেও ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে।

ইসরাইলি বাহিনী জানিয়েছে, স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে এক হাজার ১০০ টনের বেশি বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ব্যাপক বিস্ফোরণের পর দক্ষিণ লেবাননে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই বিস্ফোরণের সময় দক্ষিণ লেবাননে ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ ও তীব্র কম্পন অনুভব করেন।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আলি আল-তাহের পাহাড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের পর নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকায় শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, তারা ওই এলাকার ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংসের কাজ সম্পন্ন করেছে।

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ দাবি করেছেন, আলি আল-তাহের পাহাড়ের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলে হামলা ও নজরদারির জন্য হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতো। তাদের দাবি, ওই স্থাপনা ধ্বংসের মাধ্যমে এলাকাটির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী হয়েছে।

এদিকে ইসরাইল জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে তাদের সেনা অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং কথিত নিরাপত্তা বলয়ের এলাকায় সেনা মোতায়েন রাখা হবে। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ইসরাইলের এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সূত্র: রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ