spot_img
spot_img

গাজ্জার হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনের অর্ধেক জ্বালানিও দিচ্ছে না বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

গাজ্জা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিসের কুয়েতি স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক সুহাইব আল-হিমস জানিয়েছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) হাসপাতালগুলোতে অল্প পরিমাণ জ্বালানি পাঠিয়েছে। এসব জ্বালানির পরিমাণ দৈনিক প্রয়োজনের এক-চতুর্থাংশ থেকে সর্বোচ্চ অর্ধেক। তিনি বলেন, এই সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংকটের কোনো সমাধান নয় এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর ন্যূনতম প্রয়োজনও এর মাধ্যমে পূরণ হচ্ছে না।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সাফা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে আল-হিমস বলেন, সরবরাহ করা জ্বালানির পরিমাণের ভিত্তিতে আগে বন্ধ থাকা কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে আংশিকভাবে কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কুয়েতি হাসপাতালও রয়েছে। তবে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম এখনও বন্ধ রয়েছে।

আল-হিমস জানান, প্রকৃত সংকট দেখা দিয়েছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র ও নজিরবিহীন সংকটে। এর মধ্যে ক্ষত বাঁধার সামগ্রী, স্যালাইন, গজসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। দখলদার ইসরাইল গত তিন মাস ধরে এসব সামগ্রী গাজ্জায় প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে, আগামী এক মাসের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে। হয় আবার জ্বালানি সহায়তা দেওয়া হবে, নয়তো গাজ্জার প্রায় ২০টি চিকিৎসাকেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধই থাকবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের সংকট এখনও কাটেনি। জেনারেটরের তেল ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রীর তীব্র সংকটের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আংশিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ করলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো স্থিতিশীলতা ফিরছে না।

কঠোর অবরোধ ও ক্রমাগত সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ থাকার কারণে গাজ্জা উপত্যকার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় একের পর এক সংকট জমে ভয়াবহ বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জ্বালানি, ব্যবহারযোগ্য চিকিৎসা সামগ্রী, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে অস্ত্রোপচার, রোগীদের বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসাসেবা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল বারবার স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ও সর্বাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গাজ্জার ২০টি হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রকে জানিয়েছে, চলতি ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাদের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এর ফলে এসব হাসপাতালের কয়েকটি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। এসব হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্র হাজার হাজার রোগী ও আহত মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করছে।

সূত্র : সাফা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ