যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও গাজ্জা উপত্যকায় ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যানবাহনের চলাচল, গুলিবর্ষণ ও গোলাবর্ষণের পাশাপাশি নজরদারি বিমান ও ড্রোনের ব্যাপক উড্ডয়ন দেখা গেছে।
উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে বেইত লাহিয়ার পশ্চিমে আমেরিকান এলাকায় আল-মানামা স্কুলের দিকে সামরিক যান ও বুলডোজার অগ্রসর হয়। পরে আল-আতাতিরা স্টেডিয়ামের কাছে ট্যাংকের চলাচল দেখা যায়। এ সময় ব্যাপক ও অব্যাহত গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ছাড়া দখলদার বাহিনীর সামরিক যানগুলো জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে গুলিবর্ষণ করে। মাঠপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, উপত্যকার উত্তরাঞ্চলের আল-আতাতিরা এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহতকে আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে।
গাজ্জা শহরে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এর পর শহরের পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে আল-সানাফুর এলাকাও আক্রান্ত হয়। একই সময়ে বেইত লাহিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ অব্যাহত ছিল।
উপত্যকার মধ্যাঞ্চলে আল-মাগাজি ও আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের পূর্বদিকে ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোন থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। একই সময়ে আল-বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের উত্তরদিকে সামরিক যান থেকেও গুলিবর্ষণ করা হয়। পরে ওয়াদি গাজ্জার দক্ষিণে বেশ কয়েকটি সামরিক যানের চলাচল দেখা যায়। এ সময় সেখানেও গুলিবর্ষণ করা হয়।
উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চলে খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকার আকাশে ব্যাপকভাবে নজরদারি বিমানের উড্ডয়ন দেখা যায়। একই সময়ে খান ইউনিস শহরের দক্ষিণে সামরিক যান থেকে গুলিবর্ষণ করা হয়। রাফাহ শহরের আল-মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি ট্যাংক থেকেও ব্যাপক গুলিবর্ষণ করা হয়।
এ ছাড়া মিশরীয় শরণার্থী শিবির থেকে আল-সাফতাওয়ি গোলচত্বর পর্যন্ত বিস্তৃত আত-তাওয়াম এলাকায় ‘কোয়াডকপ্টার’ ড্রোনগুলো নিচু উচ্চতায় উড়তে দেখা যায়। একই সময়ে খান ইউনিস ও গাজ্জা শহরের আকাশে নজরদারি বিমানের ব্যাপক উড্ডয়ন অব্যাহত ছিল।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনও কার্যকর থাকা অবস্থায় এসব লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। গাজ্জা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গুলিবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় এর পরিণতি নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এসব তৎপরতার কারণে বেসামরিক মানুষের জীবন সরাসরি হুমকির মুখে পড়ছে।
সূত্র : শিহাব নিউজ











