মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন গবেষক ও ইতিহাসবিদ আসাল রাদ বড় মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, গাজ্জা উপত্যকায় কী ঘটছে সে বিষয়ে জনসাধারণকে প্রকৃত তথ্য জানাতে এসব সংবাদমাধ্যম ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে গণহত্যার যুদ্ধকে আড়াল করা এবং বেসামরিক নাগরিক ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধকে ন্যায্যতা দেওয়ার কাজে তারা অংশ নিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে রাদ বলেন, পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের সংবাদ শিরোনামে দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলি বাহিনীকে সরাসরি দায়ী পক্ষ হিসেবে উল্লেখ করতে বারবার দ্বিধা করেছে। এর পরিবর্তে তারা কর্মবাচ্য ভাষা ব্যবহার করে হামলার জন্য দায়ী পক্ষকে আড়াল করেছে। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের হত্যা এবং তাদের বাড়িঘর ও হাসপাতালগুলোতে হামলার দায় থেকে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীকে মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন এই ইতিহাসবিদ ‘নিউইয়র্ক টাইমস’, ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ ও ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর মতো বড় মার্কিন সংবাদপত্রের শিরোনাম তৈরির পদ্ধতির সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যম কোনো যাচাই বা প্রমাণ ছাড়াই দখলদার ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বয়ান গ্রহণে তৎপর হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতাল ও বেসামরিক স্থাপনাগুলোর নিচে সামরিক সদর দপ্তর রয়েছে বলে ইসরাইলের দাবি প্রচার করেছে। এর ফলে এসব স্থাপনা ধ্বংস এবং সেখানে থাকা মানুষদের হত্যার জন্য দখলদার বাহিনী আগেই রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমগত সুরক্ষা পেয়েছে।
রাদ আরও বলেন, গাজ্জা উপত্যকায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু বানানোকে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি বৈধতা দিয়েছে। দখলদারদের এমন অভিযোগ বারবার প্রচার করে তারা এ কাজ করেছে। এসব অভিযোগে কোনো প্রমাণ ছাড়াই সাংবাদিকদের প্রতিরোধের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।
রাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের ফলে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমগুলো আগ্রাসনের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার পাশাপাশি সত্য তুলে ধরা সংবাদকর্মীদের ঘটনাস্থলেই হত্যার প্রক্রিয়া সহজ করার ক্ষেত্রে অংশীদারে পরিণত হয়েছে।
‘ডন’ নামের সংগঠনের গবেষক রাদ বলেন, এই পদ্ধতিগত আচরণ সাংবাদিকতার ন্যূনতম নৈতিক ও পেশাগত নীতিমালা থেকে গুরুতর বিচ্যুতির শামিল। এতে ফিলিস্তিনি ভুক্তভোগীদের আড়াল করে তাদের কেবল শুষ্ক সংখ্যায় পরিণত করা হয়েছে। অন্যদিকে ইসরাইলি বয়ানকে ব্যাপক জায়গা দেওয়া হয়েছে এবং দখলদার কর্মকর্তাদের কোনো সমালোচনামূলক প্রশ্ন বা জবাবদিহির মুখোমুখি না করেই সেই বয়ান বারবার প্রচার করা হয়েছে।
সুত্র : সাফা নিউজ এজেন্সি











