এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে তিনটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ প্রস্তাব করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফলাফলভিত্তিক প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অধিকতর সম্পৃক্ত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিজিটাল সহযোগিতা বাড়ানো।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজারবাইজানের বাকুতে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অন ইন্টারঅ্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া (সিআইসিএ)-এর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন হুমায়ুন কবির।
তিনি এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে সিআইসিএকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, কার্যকর ও ফলাফলকেন্দ্রিক সংগঠনে রূপান্তরের আহ্বান জানান।
সিআইসিএকে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সংগঠনে রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংগঠনটির একটি সুস্পষ্ট আইনি মর্যাদা, শক্তিশালী সচিবালয়, সুনিশ্চিত অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের প্রস্তাব তুলে ধরে হুমায়ুন কবির প্রথমে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থবহ ও টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে ফলাফলভিত্তিক খাতভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এসব প্রকল্পের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ফলোআপ বা পর্যালোচনা ব্যবস্থাও রাখার প্রস্তাব দেন তিনি।
দ্বিতীয়ত, অংশীজনদের ব্যাপক অংশগ্রহণ উৎসাহিত এবং সিআইসিএ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ততা জোরদার করতে আরও বেশি সরাসরি (ইন-পার্সন) অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তাব দেন তিনি।
তৃতীয়ত, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আদান-প্রদান ও বিনিময় বাড়ানোর ওপর জোর দেন হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ এমন সব বাস্তবমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা এশিয়ার জনগণের জন্য দৃশ্যমান সুফল বয়ে আনবে।
আজারবাইজানের সভাপতিত্বে সিআইসিএর সপ্তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘একটি শক্তিশালী সিআইসিএ: এশিয়ায় সংযোগ, ডিজিটালাইজেশন এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি’। এই প্রতিপাদ্য এশিয়াজুড়ে আঞ্চলিক সংযোগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সম্মেলন চলাকালে লাও পিপলস ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (লাও পিডিআর) সিআইসিএর ২৯তম সদস্য হিসেবে যোগ দেয়। এর মাধ্যমে প্যান-এশীয় এই ফোরামের পরিধি আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।
এ ছাড়া, শীর্ষ সম্মেলনে ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের জন্য আজারবাইজানের সভাপতিত্বকে সমর্থন জানানো হয় এবং সিআইসিএর পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে সুলতান হাজিয়েভের নিয়োগ অনুমোদন করা হয়।
১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সিআইসিএ একটি বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। এর লক্ষ্য এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও আস্থা তৈরির পদক্ষেপগুলোকে উৎসাহিত করা।











