সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতাহীন নাগরিকই ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজি ও প্রভাবশালীদের ক্ষমতাচর্চার শিকার হচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, দেশের চাঁদাবাজি, ভূমিদখল ও নিরাপত্তাহীনতার বড় অংশ সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়, বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা বলেন হাসনাত আবদুল্লাহ।
পোস্টে হাসনাত বলেন, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাহীন বাংলাদেশে সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ আগের তুলনায় বেশি উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারছেন। রাষ্ট্র গঠনের সাধনায় এটিকে তিনি আনন্দের সংবাদ ও তাৎপর্যপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পূজামণ্ডপে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে পরিকল্পিত নাশকতা ঘটিয়ে এর দায় বিভিন্ন পক্ষের ওপর চাপানো হতো। এতে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ বাড়ানোর পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা নিরাপদ নয়, এমন প্রচারণাও চালানো হতো।
হাসনাত বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই কিংবা উগ্রবাদের উত্থানে বাংলাদেশ আফগানিস্তানে পরিণত হবে, এমন প্রচারণাও দেশে-বিদেশে চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একদিকে জঙ্গিবাদের নাটক সাজানো হয়েছে, অন্যদিকে পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ৫ আগস্টের পর এসব ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে তিনি দাবি করেন।
দেশের অস্থিরতা ও অপরাধ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, চাঁদাবাজি, ব্যবসা ও ভূমিদখলসহ বিভিন্ন অপরাধ এবং নিরাপত্তাহীনতা মোটাদাগে সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়। এসবের বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
তিনি বলেন, সাধারণ হিন্দু ও সাধারণ মুসলমান উভয়েই এসব অপরাধের ভুক্তভোগী। সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতাহীন নাগরিক ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাবশালীদের ক্ষমতাচর্চার শিকার হচ্ছেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি জবরদখলের শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে বেছে বেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কিছু ঘটনাকে সামনে এনে কিংবা নিজেরাই সেসব ঘটনার মঞ্চায়ন করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন হাসনাত। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু রাজনীতির ‘মুখোশ’ এখন খসে পড়েছে।
হাসনাত আরও বলেন, অপরাধকে যত বেশি বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় আনা যাবে এবং আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে নাগরিকদের যত বেশি সুরক্ষা দেওয়া যাবে, সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার ‘বিষবাষ্প’ও তত দ্রুত দূর হবে।
তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগবিহীন সময়ে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরপর তিন বছর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা প্রায় নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। এটিকে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির ‘অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পোস্টের শেষে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়ে হাসনাত বলেন, এটাই হলো জুলাইয়ের অর্জন।











