ভারতের আসামে এক হাজার ১০০ মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ ও বহু মসজিদ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ নিন্দা জানানো হয়।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেতারা বলেন, বনভূমি দখলমুক্ত করার নামে আসামের বিজেপিদলীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বেছে বেছে বাংলাভাষী মুসলমানদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে এবং তাঁদের ইবাদতের স্থান মসজিদসমূহ ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। উচ্ছেদ হওয়া এসব মানুষ বংশানুক্রমে ভারতের স্বাধীনতার আগ থেকেই সেখানে বসবাস করে আসছেন বলেও তারা দাবি করেন।
নেতারা আরও বলেন, ভেঙে দেওয়া মসজিদগুলোর মধ্যে বেশ কিছু মসজিদ অর্ধশতাব্দী আগে নির্মিত। এমনকি দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের কাছে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বন্ধ করার অপচেষ্টাও চলছে। তাদের অভিযোগ, এভাবে সারা ভারতে মুসলমানদের জানমাল এবং মসজিদ-মাদ্রাসার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে নির্মূল অভিযান চালানো হচ্ছে।
খেলাফত মজলিস নেতারা বলেন, ভারতের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিজেপি ও আরএসএসের সাম্প্রদায়িক আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এসব কর্মকাণ্ড নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
তারা বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়কে ধর্মীয় উৎসব পালনে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। অথচ ভারত সরকার তাদের সংখ্যালঘু মুসলমানদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসে মেতে উঠেছে।
ভারত সরকারকে অবিলম্বে মুসলিম নির্যাতন ও নির্মূল অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, অন্যথায় এই রাষ্ট্রকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বৈঠকে দলের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন ও মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো. আবদুল জলিল, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাহাব উদ্দিন আহমদ খন্দকার, মুফতি আবদুল হক আমিনী, নুর হোসেন, হাফেজ মাওলানা নূরুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ, ড. আবু মুসাইব, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া, আমির আলী হাওলাদার, মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











