spot_img
spot_img

আমেরিকার আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী আবের কাওয়াস

আমেরিকার নির্বাচনে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ১২তম ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। কুইন্সের এ আসনে জয়ের মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি ও মুসলিম নারীদের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তাঁর এ জয়কে ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন ছিল নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ)। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পান তিনি। এরপর সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে অঙ্গরাজ্যের সিনেটে যাওয়ার পথ তৈরি করেন। প্রাথমিক ফলাফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেলেও আনুষ্ঠানিক ভোটের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের অপেক্ষা রয়েছে।

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা আবের কাওয়াসের বাবা-মা ফিলিস্তিনি শরণার্থী। শৈশবেই তাঁর পরিবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির কঠিন অভিজ্ঞতার মুখে পড়ে। কাওয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ছোট থাকতেই তাঁর বাবাকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আটক করে এবং পরে দেশ থেকে বহিষ্কার করে। বাবার আটক ও বহিষ্কারের পর পরিবারের আর্থিক সংকটও তাঁর জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে নিজের জীবনের এ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

কাওয়াস সিটি কলেজ অব নিউইয়র্ক থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পেশাগত জীবনে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বিশেষ করে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠী, অভিবাসী এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। নিউইয়র্কের আরব আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশনে প্রধান অ্যাডভোকেসি সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক (সিইউএনওয়াই) ল স্কুলের ‘ক্রিয়েটিং ল এনফোর্সমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ উদ্যোগে অংশীদারত্ববিষয়ক সহযোগী পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন।

রাজনীতিতে আসার আগে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর আন্দোলন ‘ফাইট ফর ১৫’, অভিবাসন সংস্কার এবং পুলিশের নজরদারি ও হয়রানির বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচার-আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন কাওয়াস। নিউইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থি অধিকার আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে তাঁর। তৎকালীন অ্যাসেম্বলি সদস্য জোহরান মামদানির সঙ্গে ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ প্রচারাভিযান গড়ে তোলার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। এ উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল নিউইয়র্কভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধ করা।

কাওয়াসের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা, ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষা, অভিবাসীদের আইনি ও সামাজিক নিরাপত্তা বাড়ানো এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। পাশাপাশি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশুদের যত্নসেবা সহজলভ্য করা এবং ধনীদের ওপর কর বাড়িয়ে জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়নের পক্ষেও প্রচার চালিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও গাজ্জা পরিস্থিতি নিয়েও নির্বাচনী প্রচারে সরব ছিলেন কাওয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ ইসরাইলের সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় না করার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। আবাসন ব্যয় ও জীবনযাত্রার সংকটের পাশাপাশি অভিবাসীদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিও তাঁর নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছিল।

নিউইয়র্কের সিনেটের ১২তম ডিস্ট্রিক্টের আওতায় রয়েছে কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া, সানিসাইড, উডসাইড, রিজউড, মাসপেথ, লং আইল্যান্ড সিটি, এলমহার্স্ট, গ্লেনডেল ও জ্যাকসন হাইটসের কিছু অংশ। অভিবাসী ও শ্রমজীবী মানুষের বসবাস বেশি, এমন এসব এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন কাওয়াস। তাঁর নির্বাচিত হওয়া স্থানীয় পর্যায়ে দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সংগঠনের কাজকে আইনসভায় তুলে ধরার নতুন সুযোগ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকেরা।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ