spot_img
spot_img

গার্মেন্টসশিল্পে অস্থিরতা ও অগ্নিসংযোগে প্রতিবেশী দেশের মদত রয়েছে: রিজভী

আন্দোলনের নামে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে প্রতিবেশী দেশের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, দেশ যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে উৎপাদন ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন গার্মেন্টসশিল্পে আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ছবি তুলতে গিয়ে তৌফিক নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি নিয়ে সরকার কথা বলছে। মজুরি বোর্ডের বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত শ্রমিকেরা এখন আন্দোলনে নেই। তাহলে এখন কারা আন্দোলন করছে? যারা পালিয়ে গেছে এবং পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করছে, তাদের উসকানিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছে, কারখানা বন্ধ করছে এবং মানুষ হত্যা করছে।

বিএনপির এই নেতা দাবি করেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের সবাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাঁদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদকও রয়েছেন। ওই নেতা নিজের ফেসবুকে আন্দোলনে থাকার কথা গর্বের সঙ্গে প্রচার করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, “তার মানে, এই মদত আসছে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। উসকানি আসছে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। তারা এই দেশকে শান্ত করতে চায় না, স্থিতিশীল করতে চায় না।”

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ব্যাংকের টাকা লুট, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রীর যুক্তরাজ্যে ২০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি ব্রিটিশ সরকার বাজেয়াপ্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, লুটপাটের সেই শাসন ফিরিয়ে আনতেই হাসিনা আবারও দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন রিজভী

সমাবেশে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, এ দিন মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল করার অধিকার এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনার চেতনার প্রতীক। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মানুষের রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতার পালাবদল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাঁরা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তাঁরাও আওয়ামী লীগের নেতা এবং বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। তাঁদের মধ্যে খন্দকার মোশতাক আহমদ ও টাঙ্গাইলের আবদুল মান্নান মমিন তালুকদারের নাম উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, ১৫ আগস্টের পর ৮৩ দিন দেশ পরিচালনার পর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান ঘটে। ওই সময় দেশে আবার একদলীয় শাসন ও বাকশাল ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। পরে সাধারণ মানুষ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সম্মিলিত আন্দোলনে ৭ নভেম্বরের পরিবর্তন আসে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন।

তিনি বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে হাসিনার ১৭ বছরের শাসনের অবসান এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানেও ৭ নভেম্বরের চেতনা প্রেরণা জুগিয়েছে। এই চেতনার মূল কথা হলো, মানুষ কথা বলতে পারবে, নিজের মত প্রকাশ করতে পারবে এবং রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কেউ গুম বা খুনের শিকার হবে না।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর মানুষ আস্থা রেখেছিল। পরে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। তারেক রহমান নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দরিদ্র, হতদরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ভাতা এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন।

বক্তব্যের শেষে তিনি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। যেকোনো আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের স্থানীয় এজেন্টদের প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামিম প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ