spot_img
spot_img

আফগানিস্তানের মতো ইরাকে সামরিক সরঞ্জাম রেখে আসেনি আমেরিকা: ট্রাম্প

ইরাক থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা প্রত্যাহারের তুলনা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় সামরিক সরঞ্জাম সেখানে রেখে আসা হয়েছিল। তবে ইরাক থেকে আমেরিকান সেনারা নিজেদের সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়ে গেছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় উত্তর ইরাকের এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা ও সরঞ্জাম প্রত্যাহারের কথা উল্লেখ করেন ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে দায়েশের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক মিশনের সমাপ্তি ঘটে।

ট্রাম্প বলেন, আমি বলেছিলাম, আরও একটু সময় নাও। সবাইকে নিয়ে যাও। আপনারা যদি মনে করে থাকেন, আফগানিস্তানে আমরা সব সামরিক সরঞ্জাম রেখে এসেছিলাম। সবকিছুই সেখানে ফেলে আসা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছিলাম, ‘আমি প্রতিটি স্ক্রু পর্যন্ত নিয়ে যেতে চাই। মাটিতে যদি কোনো স্ক্রু পড়ে থাকে সেটিও নিয়ে যাও। আমাদের যদি কোনো ক্যানভাসের তাঁবু থাকে সেটিও নিয়ে যাও।’ আমরা সবকিছুই নিয়ে গেছি।”

তিনি ২০২১ সালের আগস্টে কাবুল বিমানবন্দরে হামলার কথাও উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ১৩ জন আমেরিকান সেনা নিহত হয়েছিলেন।

ট্রাম্প বলেন, হামলায় নিহত আমেরিকান সেনাসদস্যদের পরিবারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গুরুতর আহত সেনাসদস্যদের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ওই সেনাদের সন্তানদের সঙ্গে যা ঘটেছে তা কখনোই ঘটতে দেওয়া উচিত ছিল না।” তিনি আরও বলেন, ৪৮ জন আহত সেনাসদস্য গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং “তাদের কথা কখনো উল্লেখ করা হয় না।

ট্রাম্প বলেন, ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে তিনি যে ব্যয়বহুল সামরিক সম্পৃক্ততা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, তিনি একটি স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন এবং আমেরিকার উপস্থিতিকে স্থায়ী হতে না দিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে সামরিক কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বুধবার আমেরিকার সামরিক বাহিনী জানায়, এরবিল বিমানঘাঁটি থেকে তাদের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম সুশৃঙ্খলভাবে প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইরাকে ‘অপারেশন ইনহেরেন্ট রিজলভ’ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। দায়েশ ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করার পর ২০১৪ সালে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন এই মিশন শুরু হয়েছিল। আমেরিকা বর্তমানে জর্ডানে অবস্থিত একটি সদর দপ্তর থেকে সিরিয়ায় দায়েশবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমেরিকা ইরাকে প্রবেশ করেছিল এবং বর্তমানে ওই গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণে কোনো ভূখণ্ডভিত্তিক “খিলাফত” নেই।

তিনি বলেন, আমরা একটি খিলাফতের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসেছিলাম। এখন আর কোনো খিলাফত নেই। তাই আমরা সত্যিই দেশে ফিরে যাচ্ছি।

সূত্র : আরিয়ানা নিউজ

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ