আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে স্বেচ্ছায় ভিডিও বার্তা দেননি বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এমনটাই জানিয়েছেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে প্রচারিত ছয় সমন্বয়ককের ভিডিও স্টেটমেন্টটি আমরা স্বেচ্ছায় দেইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কোনো সিদ্ধান্ত ডিবি অফিস থেকে আসতে পারে না। সারাদেশের সকল সমন্বয়ক ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ব্যতীত কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গৃহীত হবে না।
বিবৃতিতে তাদের কীভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সাবেক ডিবি কর্মকর্তা হারুন অর রশীদের সঙ্গে টেবিলে খাওয়াসহ আন্দোলন এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন তারা।
এছাড়াও গুম, গ্রেফতার ও নির্যাতন থেকে নিরাপত্তা এবং মত প্রকাশের অধিকারের নিশ্চয়তা চাইলেও অসাংবিধানিক ও আইনবহির্ভূতভাবে তাদেরকে ডিবি হেফাজতে আটকে রাখা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
এতে তারা বলেন, ডিবি অফিসে আমাদের জোর করে খাবার টেবিলে বসিয়ে ভিডিও করা হয়। আমাদের ছেড়ে দেবার আশ্বাস দিয়ে পরিবারকে ডেকে ১৩ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় এবং মিডিয়ায় মিথ্যা স্টেটমেন্ট দেওয়ানো হয়। আমাদের শিক্ষকরা দেখা করতে আসলে, দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
এ সময় সমন্বয়কদের আটক, সারাদেশে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ৩০ই জুলাই রাত থেকে সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আবু বাকের ডিবি অফিসেই অনশন কর্মসূচী শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তা জানতে পেরে সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুলাহ ও নুসরাত তাবাসসুমও অনশন শুরু করেন।
গত সাতদিন ডিবি অফিসে তাদের ও তাদের পরিবারের সাথে হয়রানি, নির্যাতন ও নাটকের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় সমন্বয়করা।
একইসঙ্গে ছাত্র-নাগরিক হত্যার বিচার ও আটককৃত নিরপরাধ ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।
সূত্র: বিবিসি বাংলা











