হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, শহীদদের রক্তের পথ বেয়েই এদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বাদ আছর দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী ছাত্র জনতার রুহের মাগফিরাত ও আইন শৃংখলা বাহিনী ও সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহতদের সুস্থতা কামনায় এবং ফিলিস্তিনের হামাস নেতা শহীদ ইসমাইল হানিয়ার মাগফিরাত কামনায় চট্টগ্রামের জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগরে অনুষ্ঠিত দু‘আ মাহফিলে এ কথা বলেন তিনি।
আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, কোটা আন্দোলন এখন ছাত্রজনতা হত্যার বিচারের দাবিতে রূপ নিয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এমন নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে। এই শাসকগোষ্ঠীর হাতে ছাত্রহত্যার বিচার আকাশ-কুসুম কল্পনা মাত্র। ৫ মের শাপলা চত্বরে শহীদ হেফাজতকর্মী ও মাদরাসা ছাত্রদের খুনের বিচার গত দশ বছরেও করা হয়নি। এক্ষেত্রে সরকারের কোনও বিকার নেই; অনুতাপ নেই। বরং বারবার নির্দয় অস্বীকারের দুঃসাহস দেখেছি আমরা। সুতরাং, হত্যাকারীর কাছে হত্যার বিচার চেয়ে কোনও প্রতিকার আসবে না। এই জালিম শক্তির ধ্বংস ছাড়া এদেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। তার মিথ্যা আশ্বাসে প্রতারিত হবেন না।
আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী আরও বলেন, আজকে নির্বিচার গুলি, গণগ্রেপ্তার, গুম ও অন্যায়-জুলুমের বিরুদ্ধে এবং ছাত্রহত্যার বিচারের দাবিতে দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধ। আমাদেরও অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। আমরা রক্তে ভেদাভেদ করি না। ন্যায়ের পক্ষে এবং জুলুম-বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিহতরা শহীদ। আর শহীদদের রক্ত কখনো বৃথা যায় না। তাদের রক্তের পথ বেয়েই আমাদের জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পাবে, ইনশাআল্লাহ। আমি ছাত্র সমাজকে সাহসিকতার সাথে এগিয়ে যাওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, হেফাজতে ইসলাম ও প্রতিবাদী আলেমসমাজকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা এখনও চলমান। মিথ্যা মামলা-মোকদ্দমার বেড়াজালে ফেলে আলেমদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সমস্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ভয়ভীতি দেখিয়ে এবং হয়রানি করে নবীর উত্তরসূরীদের দাবিয়ে রাখা যাবে না।
দু‘আ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজতের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা হাবীবুল্লাহ বাবুনগরী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মীর ইদরীস, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নাছির উদ্দিন মুনীর, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জাকারিয়া নোমান ফয়েজী, হেফাজত কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী মাহমুদুল হাসান গুনবী, মাওলানা মুহাম্মাদ বাবুনগরী, মুফতী ইসমাইল প্রমুখ।
এদিকে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দু‘আ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা মুফতী মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মুফতী বশির উল্লাহ, মাওলানা জুবাইর আহমদ, মাওলানা রাশেদ বিন নুর, মাওলানা এহসানুল হক, মাওলানা আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, মাওলানা এহতেশামুল হক সাখী, মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মাওলানা শরীফ হোসাইন, মাওলানা তৈয়ব, মাওলানা মুমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
বিবাড়ীয়ার জামিয়া ইসলামিয়া দারুল আকরাম মাদরাসায় বা’দ জুমা দু’আ করেন, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজেদুর রহমান। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, হেফাজত নেতা মাওলানা আব্দুল হালিম, মাওলানা আলী আজম, মাওলানা আনাস সা’দ, মাওলানা আসাদ।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ন মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহারের সভাপতিত্বে লালখান বাজার মাদ্রাসায় দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা কামরুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা ইকবাল খলিল, মাওলানা রিদওয়ানুল ওয়াহিদ প্রমুখ।
কুমিল্লা মহানগরে হেফাজত ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে বা’দ আসর শহীদ ও আহতদের জন্য দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী শামছুল ইসলাম জিলানী, মুফতী আমজাদ হোসাইন, মাওলানা অলিউল্লাহ, মাওলানা সাখাওয়াত বিন তাহের,মাওলানা সোলায়মান, মাওলানা আমানুল্লাহ মুন্সী, মাওলানা মারুফ রহমান, মাওলানা মুফতী ইমাম হোসাইন, মাওলানা সাখাওয়াত রাহাত, মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা শাহাদাত হোসাইন প্রমুখ।











