তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আব্দুল ফাত্তাহ সিসির মাঝে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কায়রোতে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সামরিক প্রেসিডেন্ট বলেন, তুরস্কের সঙ্গে গঠনমূলক সহযোগিতা জোরদারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মিশর। আমরা কায়রো ও আঙ্কারার মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা ও উন্নয়ন জোরদারের প্রয়োজনীয়তাকে গুরুত্ব দিচ্ছি, যেনো অঞ্চলের সংকটগুলোর মূল কারণ সমাধানে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো যায়।
তিনি আরো বলেন, আমরা বাণিজ্য বিনিময়ের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে কাজ করার এবং এই লক্ষ্য অর্জনে যে কোনো প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রয়োজনীয়তাও পুনর্ব্যক্ত করেছি।
মিসরের প্রেসিডেন্ট অঞ্চলটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় ও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আমরা তুরস্কের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে অধিক গুরুত্ব দিই, যার ইতিহাস আংশিকভাবে মিসরের ইতিহাসের সঙ্গে মিলিত। মিশর আফ্রিকায় তুরস্কের প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তুরস্ক মিসরের রপ্তানির অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তুর্কি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় গাজ্জা পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের গুরুত্ব এবং শান্তি পরিকল্পনায় কোনো বাধা বা ফাঁকফোকর তৈরির প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে একমত হয়েছি।
সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি ও তার তুর্কি প্রেসিডেন্ট উপত্যকাটিতে একটি মানবিক যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর গুরুত্বে একমত হয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত একটি সামগ্রিক শান্তি চুক্তির পথ তৈরি করবে।
তিনি সিরিয়ার ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রতি মিশরের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং আরব দেশটিতে স্থিতিশীলতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন।
এছাড়াও বলেন, আমরা উভয় পক্ষ সোমালিয়ার ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার গুরুত্বেও একমত হয়েছি এবং দেশটিকে বিভক্ত করার যে কোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করছি।
সিসি জানান, এরদোগানের সঙ্গে তার আলোচনায় লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা অর্জনে যৌথ প্রচেষ্টার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। তিনি এবং এরদোগান দু’জনই জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, লিবীয়-নেতৃত্বাধীন সমাধান এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আলোচনায় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমন, কূটনৈতিক সমাধান এগিয়ে নেওয়া এবং যুদ্ধের আশঙ্কা এড়ানোর প্রচেষ্টা, বিশেষত, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু ও সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের উপর তিনি ও প্রেসিডেন্ট এরদোগান জোর দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন এবং যোগ করেন যে, মিশর ২০২৮ সালে আঙ্কারায় উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা পরিষদের তৃতীয় বৈঠক আয়োজনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: আনাদোলু










