রবিবার | ৮ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

আইএস বন্দীদের আরেকটি গ্রুপকে সিরিয়া থেকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে আমেরিকা

সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘আইএস’ বন্দীদের আরেকটি গ্রুপকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে আমেরিকা।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে একথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আহমদ শার’আর সরকার, কুর্দি সমর্থিত বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) ও আমেরিকার মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় সমঝোতার অংশ হিসেবে ‘আইএস’ বন্দীদের আরেকটি গ্রুপকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে আমেরিকা।

হাসাকা প্রদেশের ঘুয়াইরান কারাগার থেকে স্থলপথে তাদের ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে ইরাকি নাগরিকদের উপর সংঘটিত নৃশংসতার তদন্ত শুরু করা হবে।

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন কারাগার থেকে বন্দীদের স্থানান্তরের একটি বৃহত্তর অভিযানের সূচনা নিশ্চিত করে। কর্মকর্তারা জানান, প্রায় ৭,০০০ বন্দিকে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে আইএস বন্দীদের ২টি গ্রুপকে ইরাকে পাঠানো হয়েছে। ইরাকী নাগরিকদের উপর নৃশংসতার দায়ে দেশটির সরকার তাদের বিরুদ্ধে তদন্তও শুরু করেছে।

সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। কারণ সিরিয়ার সরকারি বাহিনী উত্তরাঞ্চলে অগ্রসর হয়েছে এবং এসডিএফ পিছু হটেছে।

শনিবার, কুর্দি সমর্থিত বাহিনী এসডিএফ-এর মনোনীত গভর্নর নূরুদ্দীন আহমদ হাসাকা প্রদেশের সরকারি ভবনে দামেস্ক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। এরপর সেখানে সিরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

দামেস্ক ও এসডিএফের মধ্যে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী এসডিএফ হাসাকার গভর্নর মনোনয়নের অধিকার পাওয়ায় এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক। ধারণা করা হচ্ছে, আহমদকে শার’আর সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দিবে।

বৈঠকে বসা প্রতিনিধি দলটিতে শার’আ সরকারের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ছিলেন, যা প্রদেশটিতে দামেস্কের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি ভবনে সিরিয়ার জাতীয় পতাকা উত্তোলন হাসাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া চলতি সপ্তাহের শুরুতে সিরিয়ান সরকারি বাহিনী কামিশলি শহরে প্রবেশ করে, যা কুর্দি-নেতৃত্বাধীন এসডিএফ-এর অবশিষ্ট কয়েকটি শহুরে ঘাঁটির একটি।

গত শুক্রবার সম্পন্ন হওয়া একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরপরই এই অগ্রগতি ঘটে। এই চুক্তির ফলে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘর্ষের অবসান ঘটে এবং ধীরে ধীরে এসডিএফ যোদ্ধাদের সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একীভূত করার পথ খুলে যায়—যাকে ওয়াশিংটন জাতীয় পুনর্মিলনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এর আগে, চলতি বছরের শুরুতে সিরিয়ান সরকারি বাহিনীর পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে অগ্রযাত্রার ফলে এসডিএফ উল্লেখযোগ্য এলাকা হারায়। এতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পুনর্গঠিত হয় এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার সূচনা হয়।

আল জাজিরার আরেক প্রতিবেদক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা হাসাকা প্রদেশের আল-শাদ্দাদি এলাকায় অবস্থিত একটি সামরিক ঘাঁটির চারপাশের অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ত্যাগ করেছে। কেবল পশ্চিম দিকের একটি টাওয়ার চালু রয়েছে।
একটি টাওয়ার থেকে মার্কিন পতাকা নামাতে এবং ঘাঁটির রানওয়েতে বিমান ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ঘাঁটিতে কোনো যুদ্ধবিমান দেখা যায়নি। তবে একটি বড় কার্গো বিমান সেখানে অবতরণ করে কয়েক ঘণ্টা অবস্থানের পর উড়ে যেতে দেখা গিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের অক্টোবরে সিরিয়ায় আনুষ্ঠানিক সামরিক উপস্থিতি শুরু করে। শুরুতে আইএসআইএল বা আইএস বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে প্রায় ৫০ জন স্পেশাল ফোর্স সদস্যকে উপদেষ্টা হিসেবে মোতায়েন করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেনা সংখ্যা বাড়ানো-কমানো হয়।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে, ফলে দেশটিতে আনুমানিক ১,৪০০ মার্কিন সেনা রয়ে গেছে—যদিও সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো গোপন রাখা হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন বাহিনী আইএসের অবশিষ্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই, বর্তমান সিরিয়ান সরকারকে সমর্থন, গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং হাসাকা ও দিয়ারুজ-জুর প্রদেশের তেল ও গ্যাস অবকাঠামো নিরাপত্তায় মনোযোগ দিচ্ছে।

এছাড়া জানুয়ারিতে আমেরিকা সিরিয়ায় আইএসের বিরুদ্ধে আরেক দফা বৃহৎ পরিসরের হামলা চালায়। এর আগে ডিসেম্বরে পালমিরা শহরে এক হামলায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন বেসামরিক দোভাষী নিহত হয়েছিলো।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ