spot_img
spot_img

চুক্তিতে পৌঁছতে কায়রো অবস্থান করছে হামাস প্রতিনিধি দল

স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তিতে পৌঁছতে কায়রোতে অবস্থান করছে ফিলিস্তিন স্বাধীনতাকামী ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের প্রতিনিধি দল।

রবিবার (৭ এপ্রিল) মিশরের রাজধানীতে গিয়ে পৌঁছে দলটি।

হামাসের বিবৃতি অনুসারে, কায়রো পৌঁছেই মিশর ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের প্রধান আব্বাস কামিলের সাথে বৈঠকে মিলিত হোন তাদের প্রতিনিধিরা।

স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, বন্দী বিনিময়, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবর্তন ও ত্রাণ সহায়তার অবাধ প্রবেশ এবং গাজ্জা পুনর্গঠনের বিষয়ে হামাস বদ্ধপরিকর বলে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয়ে কোনো রকমের ছাড় দেওয়া হবে না বলে মধ্যস্থতার ভূমিকায় থাকা দেশ মিশরকে জানিয়ে দেওয়া হয়।

পবিত্র কুদস নগরীকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে হামাস দখলকৃত ফিলিস্তিনের সকল দল, উপদল ও গোষ্ঠীর সাথে রয়েছে এবং থাকবে বলে দৃঢ়তা ব্যক্ত করা হয়।

এর আগে গাজ্জায় গণহত্যা পরিচালনা করতে থাকা ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের যুদ্ধ পরিষদ হামাসের সাথে চুক্তিতে পৌঁছতে নিজেদের সম্মতি প্রকাশ করে। আলোচনার জন্য কায়রোতে নিজেদের একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে।

হামাসকে নি:শেষ করার মধ্যদিয়ে ইসরাইলী জিম্মিদের উদ্ধার করার পরিকল্পনা নিয়ে গাজ্জায় গণহত্যা জারি রেখেছিলো অবৈধ রাষ্ট্রটি। আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ করে দিয়ে কৃত্রিম দুর্ভিক্ষও সৃষ্টি করেছিলো বিশ্ব মানবতার শত্রুরা। এমনকি এয়ারড্রপ থেকে সহায়তা সংগ্রহে জড়ো হওয়া সাধারণ ফিলিস্তিনিদের বোমা হামলার মাধ্যমে নির্মমভাবে হত্যা করে যাচ্ছিলো। সম্প্রতি সাগরপথে সহায়তা প্রদানের সময় অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, কানাডা ও পোল্যান্ডের নাগরিকত্ব ধারী ৭ সহায়তাকর্মীকে হত্যা করে বিপাকে পড়তে হয় তাদের। আন্তর্জাতিক সহায়তাকর্মীদের হত্যার প্রেক্ষিতে আমেরিকা, ব্রিটেন সহ ইউরোপের দেশগুলো হুমকি দিয়ে বসে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ও হামাসের বিরুদ্ধে সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার।

ইউরোপ আমেরিকার এমন চাপের মুখে দেশটির সেনাপ্রধান এই হত্যাকাণ্ডকে নিজেদের ভুল বলে স্বীকার করে। পরিকল্পনার সাথে যুক্ত কমান্ডারদের বরখাস্ত করে। যুদ্ধ পরিষদ অনুমোদন দেয় হামাসের সাথে চুক্তিতে যেতে বৈঠকে বসার।

বিশ্ব মানবতার শত্রু রাষ্ট্রটি এখন পর্যন্ত হত্যা করেছে ৩৩ হাজার ১৩৭ নিরীহ ফিলিস্তিনিকে। আহত করে ৭৫ হাজার ৮১৫ জনকে। এতে শুধু শিশুর সংখ্যাই রয়েছে প্রায় ১৪ হাজার। আংশিক ও সম্পূর্ণ রূপে মসজিদ ধ্বংসের সংখ্যা ২২৭টি ও গীর্জা ৩টি।

অপরদিকে পশ্চিম তীরেও সমানতালে সন্ত্রাসী অভিযান ও নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে অবৈধ রাষ্ট্রটির সেনারা। এখন পর্যন্ত ৪৫৬ সাধারণ ফিলিস্তিনিকে হত্যা ও হাজারের অধিককে আহত করেছে তারা। বিনা অপরাধে গ্রেফতার করেছে ৮ হাজার ৩০ জনকে।

সূত্র: আনাদোলু

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ