ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেছেন, জুলাই সনদ রক্তে স্নাত একটি তাৎপর্যপূর্ণ দলিল। এই দলিলকে রাজনীতি ও বিতর্কের বিষয়বস্তু না বানিয়ে সনদে বর্ণিত সংস্কার বাস্তবায়নে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের নিয়মিত বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, জুলাই সনদ তৈরিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব সংগঠনের অবদান ছিল। এই দলিল দেশকে স্বৈরতন্ত্রের নাগপাশ থেকে মুক্ত করার একটি প্রতিজ্ঞা। তাই জুলাই সনদকে রাজনীতি ও বিতর্কের বিষয়বস্তু বানানো যাবে না। বরং সনদে বর্ণিত সংস্কার সাধনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
তিনি বলেন, একাত্তরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে অতি রাজনীতির পরিণতি আমরা দেখেছি। অতি রাজনীতির ফলে মহান মুক্তিযুদ্ধ জাতির মধ্যে বিভাজনের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছিল। দলীয় স্বার্থের বিপক্ষে থাকা সবাইকে স্বাধীনতাবিরোধী বলে অভিযুক্ত করা হতো। জুলাই নিয়ে আমরা কোনো অতি রাজনীতি দেখতে চাই না। জুলাই আমাদের সবার। জুলাইয়ের প্রতি দায়বদ্ধতাও সবার।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান চাওয়া ছিল স্বৈরতন্ত্রের চিরস্থায়ী বিলোপ। সেই লক্ষ্যে কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছিল। বিএনপি সরকার তার অনেকগুলো সংসদে অনুমোদন করেনি, যা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, সরকারের কার্যত মুখপাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়গুলোতে নতুন আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন। জারি হওয়া অধ্যাদেশ সংশোধনের পথে না হেঁটে বিলোপ করে দেওয়া সন্দেহজনক। তথাপিও আমরা সরকারের প্রতি আস্থা রাখতে চাই যে, গুম, মানবাধিকার, দুদক ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার দ্রুত আইন তৈরি করবে। সরকার গণভোটের আলোকে উচ্চকক্ষ গঠন করবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার এর ব্যত্যয় করলে জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি করা হবে। আর রক্তের সঙ্গে গাদ্দারির ফল কখনো ভালো হয় না।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক, মুহাম্মাদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম, কে এম আতিকুর রহমান, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, আলহাজ আব্দুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, মাওলানা মনসুর আহমদ সাকী, মাওলানা খলিলুর রহমান ও মুফতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।











