spot_img
spot_img

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে গভীর বিপর্যয়ে কিউবা

চলমান জ্বালানি সংকট ও দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিউবাকে গভীর মানবিক ও সামাজিক সংকটে ফেলেছে। রাজধানী হাভানাসহ পুরো দেশে মানুষ কয়েক দিন ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পানির সংকট, অতিরিক্ত গরম ও মশার উপদ্রব পরিস্থিতিকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।

অন্ধকারে বসে এক চিকিৎসক বলেন, “আমরা চার দিন ধরে আলো ছাড়া আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় পানিও মিলছে না, আর চারদিকে মশার উপদ্রব।”

বিদ্যুৎহীনতার কারণে অনেক এলাকায় মানুষ হাঁড়ি-পাতিল পিটিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। কিউবায় এই ধরনের প্রতিবাদ ‘কাসেরোলাজো’ নামে পরিচিত এবং এখন তা সাধারণ প্রতিবাদের রূপ নিয়েছে।

হাভানার মধ্যাঞ্চলেও পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। বিদ্যুৎ কোম্পানি সীমিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের চেষ্টা করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

পেট্রোল স্টেশনগুলো মাসের পর মাস ফাঁকা থাকায় পরিবহন ও রান্নার জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। অনেক মানুষ এখন কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করে রান্না করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মার্থা পেরেজ নামে এক বাসিন্দা জানান, অনলাইনে গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে পারলেও তার দাম বেড়ে এখন ২৯ ডলার হয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র কয়েক সেন্ট। মূল্যস্ফীতির কারণে তার মাসিক পেনশন ১০ ডলারেরও কমে নেমে এসেছে। ফলে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তীব্র গরম ও উচ্চ আর্দ্রতার কারণে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পর্যটন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক আন্তর্জাতিক কোম্পানি কিউবা থেকে সরে যাচ্ছে বা তাদের কার্যক্রম কমিয়ে দিচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, আমদানি কমে গেলে খাদ্য সংকট আরও বাড়বে। অন্যদিকে কিউবা ও আমেরিকার মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর ফলে নতুন নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, সংকটের সমাধান না হলে এর ফলাফল হতে পারে আরও বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা।

এদিকে প্রচণ্ড গরম ও খরার পূর্বাভাস কিউবার পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলছে। বিদ্যুৎবিহীন একটি দেশে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা।

সব মিলিয়ে কিউবা এখন গভীর অন্ধকারে, শুধু বিদ্যুতের নয়, ভবিষ্যতের দিক থেকেও।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ