spot_img
spot_img

গাজ্জায় প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দখলদার অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের হামলায় গাজ্জায় গড়ে প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি শহীদ বা আহত হয়েছেন। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সহায়তা সংস্থা ইসলামিক রিলিফ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির হিসাবে, গত এক বছরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৪৫৪ ফিলিস্তিনি শহীদ হয়েছেন এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। শহীদদের মধ্যে অন্তত ৩২০ জন শিশু। অর্থাৎ, গত এক বছরে গড়ে প্রতিদিন প্রায় একজন শিশু শহীদ হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় ১ হাজার ৪৭১ ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ৫ হাজার ১৮৯ জন আহত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায়ই চারজন শহীদ ও ২৮ জন আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজ্জায় মোট শহীদের সংখ্যা ৭৪ হাজার ২৫৪ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় এক ফিলিস্তিনি শহীদ হন। একই দিন মধ্য গাজার খান ইউনিসে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় কয়েকজন আহত হন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের পশ্চিমে আল-ইয়ামুন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের সময় ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট।

ইসলামিক রিলিফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’ বা হলুদ রেখাকে কাজে লাগিয়ে গাজ্জার প্রায় ৬৫ শতাংশ এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রায় ২১ লাখ মানুষের এই ভূখণ্ডের বাকি ৩৫ শতাংশ এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে।

গাজ্জায় কর্মরত ইসলামিক রিলিফের এক সহায়তাকর্মী নিরাপত্তার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাস্তবে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই। বাস্তুচ্যুত মানুষের শিবির ও জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতেও হামলা চালানো হচ্ছে। ফলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।

ইসলামিক রিলিফের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল এখনো গাজ্জায় আশ্রয় তৈরির সামগ্রী, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজ্জার প্রায় ৮২ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেকেরও বেশি কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া গুরুতর অসুস্থ ২০ হাজারের বেশি রোগীকে চিকিৎসার জন্য গাজ্জার বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গাজ্জায় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার জন্য বিশ্বনেতাদের আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক রিলিফ। সংস্থাটির মতে, শুধু কাগজে-কলমে যুদ্ধবিরতি থাকলেই চলবে না। মানুষের প্রাণহানি বন্ধ এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইসলামিক রিলিফ বলেছে, নামমাত্র যুদ্ধবিরতিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয় থাকার অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা যায় না।

সূত্র: ইসলামিক রিলিফ, ওয়াফা, ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ