ইনসাফ | নাহিয়ান হাসান
দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেম থেকে ফিলিস্তিনি পরিবার উচ্ছেদের আবেদনের শুনানি পেছাতে বাধ্য হয়েছে জেরুসালেমে অবস্থিত ইহুদিবাদী ইসরাইলের একটি আদালত।
সাম্প্রতিক সময়ে দখলকৃত ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুসালেমের শেখ জাররাহ অঞ্চলে উত্তেজনা বহুগুণে বেড়ে যাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা যায়।
শনিবার (৮ মে) পবিত্র লাইলাতুল ক্বদরের মহিমান্বিত রজনীতে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক মুসলিমদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদুল আকসায় জড়ো হয়ে নামাজ পড়তে শুরু করলে তাদের উপর ক্র্যাকডাউন চালায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের সন্ত্রাসী পুলিশ। এতে ৯০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি গুরুতরভাবে আহত হোন।
এর আগে গত শুক্রবার রাতের তাণ্ডবে ২ শতাধিক ফিলিস্তিনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলো বলে জানা যায়।
তাণ্ডব চালানোর পিছনে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সন্ত্রাসী সেনাদের অভিযোগ ছিলো, ফিলিস্তিনিরা তাদের ১৭ জন অফিসারকে আহত করেছে!
মূলত রমজানের শুরু থেকেই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে যখন ইহুদিবাদী সন্ত্রাসীদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেমের আরব ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের ঘরবাড়ি থেকে উচ্ছেদের আদেশ দেয়, যাকে ফিলিস্তিনিরা ১৯৪৮ সালে নাকবার (খাঁটি আরব ফিলিস্তিনি নির্মুল ষড়যন্ত্র) অধীনে শুরু হওয়া ফিলিস্তিন জাতি নিধনের সাথে তুলনা করছে।
তাছাড়া বেশ কিছুদিন আগে বিভিন্ন উগ্র ইহুদি, তাদের উপর আরব ফিলিস্তিনিরা সন্ত্রাসী হামলা করছে বলে গুজব ছড়িয়ে শেখ জাররাহতে সন্ত্রাসী হামলা করে এবং আন্দোলনরত কয়েক ডজন নিরীহ ফিলিস্তিনিকে আহত করে।
জানা যায়, পূর্ব জেরুসালেমের যেসব বাড়িঘর নির্মাণে মার্কিন অর্থ সহযোগিতা রয়েছে তাদেরকে নিজ ঘর খালি করা না করার ব্যাপারে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবারের আগে আগে তাদেরকে অদ্ভুত বিশেষ চুক্তির আওতায় ঘর খালি করে দেওয়ার নোটিশ পাঠিয়েছিলো ইসরাইলী উচ্চ আদালত।
জানা যায়, ওই অদ্ভুত বিশেষ চুক্তিটি সম্পাদিত হতে হবে অবৈধ বসতিতে বসবাসকারী ইহুদি শরণার্থীদের সাথে এবং সেসমস্ত বাড়ির ফিলিস্তিনি মালিকগণ তাদেরকে ভাড়া প্রদান করে থাকতে পারবেন। তবে বাড়ির মালিকানা থাকবে, যে ইহুদি শরণার্থীদের সাথে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে তাদের হাতে!
তাছাড়া ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের উচ্চ আদালতের ফিলিস্তিন উচ্ছেদাদেশের রায়ের ফলে দখলকৃত ফিলিস্তিনে অবৈধ বসতি স্থাপনকারী উগ্র ইহুদিবাদীরা ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া শুরু করে। যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর ১০ মে সোমবার ইহুদিবাদী ইসরাইলের জেরুসালেম দিবস পালন করে থাকে। কেননা তাদের বক্তব্য অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেম ১৯৬৭ সালের ১০ মে’র আগ পর্যন্ত দখলকৃত ছিলো যা পরবর্তীতে ইহুদিবাদী ইসরাইল নিজেদের দখলে আনতে সক্ষম হয়।
ইহুদিবাদী অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইলের উগ্র নাগরিকরা প্রতি বছর এদিবস উপলক্ষে পূর্ব জেরুসালেম অভিমুখে মার্চ করে থাকে। তাই আগামীকাল উত্তেজনা ও হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইহুদিবাদী ইসরাইল বলছে, জেরুসালেম দিবস উপলক্ষে তাদের বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে রাস্তায় অবস্থান করছে!
সূত্র: আল জাজিরা












