ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় বিবস্ত্র করে ধর্ম শনাক্তের পর পাপ্পু আনসারি (৪০) নামে এক মুসলিমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে উগ্র হিন্দুত্বাবাদীরা।
নিহতের পরিবারের বলছে, তাকে মুসলিম হিসেবে চিহ্নিত করার পর পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে গোড্ডা জেলার পোড়াইয়াতি থানার মাটিহানি গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে মাটিহানি ও লাট্টা গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে আনসারির মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের ভাই মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, “তারা ওর প্যান্ট খুলে ফেলে এবং ও মুসলিম নিশ্চিত হওয়ার পর আমার ভাইকে মেরে ফেলে। ওকে ফাড়সা (কুড়াল সদৃশ অস্ত্র) দিয়ে কোপানো হয়েছে, লাঠি দিয়ে পেটানো হয়েছে, তীর বিদ্ধ করা হয়েছে এবং ছেনি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যার হাতে যা ছিল তাই দিয়ে ওকে আক্রমণ করেছে। ‘ও মুসলিম, ওকে মেরে ফেল’—এই কথা বলতে বলতে ওকে খুন করা হলো। মুসলিম হওয়া কি অপরাধ? আমাদের দেশে এটাই কি বিচার?”
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, পাপ্পু আনসারি গবাদি পশু পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন এবং পরে টাকা মেটানোর অজুহাতে তাকে আবার ডাকা হয়।
নাসিম বলেন, “ভোরবেলা আমার ভাইকে সেখানে ডাকা হয়েছিল। সে একজন চালকের সাথে গিয়ে টাকা নেয়। এরপর তাকে বলা হয় গরু দেওয়া হবে না এবং সেখান থেকে পালিয়ে যেতে বলা হয়। সে যখন পালানোর চেষ্টা করে, তখন পেছন থেকে কেউ তাকে আক্রমণ করে। এরপর তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, রাত ১টা নাগাদ গবাদি পশু চুরির সন্দেহে গ্রামবাসীরা পাপ্পু আনসারিকে ধরে ফেলে এবং লাঠি দিয়ে মারধর করে। খবর পেয়ে পোড়াইয়াতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহাবীর পণ্ডিত এবং পরবর্তীতে সদর দপ্তরের ডিএসপি জেপিএন চৌধুরী ঘটনাস্থলে পৌঁছান। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চটি, রক্তমাখা লাঠি, একটি পোড়া মোবাইল ফোন, গুটখার প্যাকেট এবং ছাই উদ্ধার করেছে। ডিএসপি জেপিএন চৌধুরী বলেন, “যুবকটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা জড়িতদের শনাক্ত করছি এবং অভিযান চলছে।”
তবে নিহতের পরিবার চুরির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে যে এই হত্যাকাণ্ড ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকে করা হয়েছে। প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসিম বলেন, “কোনো বিধায়ক, সংসদ সদস্য বা কোনো কর্মকর্তা আমাদের কাছে আসেননি। আমার ভাইকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হয়েছে। তার পাঁচটি সন্তান রয়েছে, চার মেয়ে এবং এক ছোট ছেলে। ওদের ভবিষ্যতের কী হবে?”
তিনি খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “আমরা এই দেশের নাগরিক। আমরা বিচার চাই। প্রশাসনকে অবশ্যই অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি দিতে হবে।”











