বৃহস্পতিবার | ২২ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

গত এক মাসে গাজ্জায় ইসরাইলী হামলায় জাতিসংঘের ১০০ কর্মী নিহত

গত ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজ্জা উপত্যকায় জাতিসঙ্ঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-এর ১০০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটির কমিশনার-জেনারেল ফিলিপ লাজারিনি।

শুক্রবার (৭ নভেম্বর) এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় এ বিষয়টি জানান তিনি।

তিনি বলেন, “গত ১ মাসে ইউএনআরডব্লিউএ- এর ১০০ কর্মী নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেছে। যার মধ্যে শিক্ষক, নার্স, চিকিৎসক ও সহায়তা কর্মী রয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “জাতিসংঘ, ফিলিস্তিন ও ইসরাইল শোক প্রকাশ করছে। আর এই শোকাবহ ব্যাপারের সমাপ্তি ঘটাতে মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রয়োজন।”

গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গাজ্জায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে ফিলিপ বলেন, “গত মাসটি ইউএনআরডব্লিউএ-এর জন্য বেদনাদায়ক ছিল।”

তিনি আরো বলেন, এত অল্প সময়ের সংঘাতে জাতিসংঘের যে সংখ্যক কর্মী নিহত হয়েছে তা সংস্থাটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংখ্যা।

এছাড়াও তিনি শিশুসহ ১১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন সম্মেলনে।

ফিলিপ আরো বলেন, ১০ লাখেরও বেশি লোককে তাদের বাড়িঘর ছেড়ে এমন জায়গায় যেতে বাধ্য করা হয়েছে যেখানে পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে।

তিনি বলেন, “জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য, পানি ও ঔষধের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ‘সম্মিলিত শাস্তির’ অন্তর্ভুক্ত।”

ফিলিপ বলেন, “দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও অবৈধ দখলকারীদের সহিংসতায় সেখানেও সর্বোচ্চ সংখ্যক ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।”

গত সপ্তাহে গাজ্জা উপত্যাকার সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো আমি ইউএনআরডব্লিউএ-এর অন্তর্ভুক্ত একটি স্কুল পরিদর্শন করি। যেখানে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনিকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এই স্কুলের বাচ্চারা এতদিন হাসিমুখে পড়াশোনা করত। অথচ এখন তারা এক চুমুক পানি ও এক টুকরো রুটির জন্য হাহাকার করছে। সেখানকার পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক।”

উল্লেখ্য, প্যারিসে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মানবিক সম্মেলনে আরো যোগ দেন তুরস্কের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আহমেদ ইলদিজ, ফিলিস্তিনের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শতায়েহ, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লে‌ইন, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি, চার্লস মিশেল ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো।

উদ্বোধনী বক্তব্যে, ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ৮৫ মিলিয়ন ডলার অর্থ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ