রবিবার | ৮ ফেব্রুয়ারি | ২০২৬
spot_img

সাড়ে তিন মাস আগে মারা গেছেন হারিছ চৌধুরী

লন্ডনের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব আবুল হারিছ চৌধুরী।

সাড়ে তিন মাস পর বুধবার (১২ জানুয়ারি) বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁর চাচাতো ভাই সিলেট জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আশিক চৌধুরী।

তিনি জানান, লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। আগস্ট মাসে হারিছ চৌধুরী লন্ডনে করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন। এর কয়েকদিন পর তাঁর করোনা রিপোর্ট নেগেটিভও আসে। করোনা’র ধকল সাময়িক কাটিয়ে উঠলেও তাঁর ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় ফুসফুসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। পরে আবারও তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। সেই সময় হারিছ চৌধুরী’র মৃত্যুর সংবাদটি তার মেয়ে মুন্নু চৌধুরী ফোনে দেশে জানিয়েছিলেন বলে জানান আশিক চৌধুরী।

তিনি জানান, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে হারিছ চৌধুরী লন্ডনে থাকতেন। তাঁর ছেলে জনি চৌধুরী পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ার।

প্রসংগত, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০১৮ সালে যাবজ্জীবন সাজা হয় হারিছ চৌধুরী’র। একই বছর ২৯ অক্টোবর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হারিছ চৌধুরীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সংগে তাঁকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলায় হারিছ চৌধুরী’র বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। বর্তমানে সেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর হারিছ চৌধুরী সস্ত্রীক তাঁর গ্রামের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার দর্পনগরে আসেন। রাত ১২টার পর তার ব্যক্তিগত সহকারি আতিক মোবাইল ফোনে জানান, ঢাকায় বিএনপি নেতাদের বাসভবনে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলছে। কয়েক ঘণ্টা পর যৌথ বাহিনী হারিছ চৌধুরী’র বাড়িতে হানা দেয়। কিন্তু তার আগেই তিনি সড়ে পড়েছিলেন। কিছুদিন সিলেটে এখানে-ওখানে লুকিয়ে থাকার পর ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে চলে যান। ভারতের আসামের করিমগঞ্জ জেলার বদরপুরে তার নানাবাড়ি। সেখানেই তিনি ওঠেন। সেখান থেকেই বিদেশে পাড়ি জমান।

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ