৯৯৭ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত অন্তত তিনটি হত্যা মামলায় জড়িত থাকা হেলাল সময়ের বিবর্তনে পরিচিত হয়ে উঠেন সেলিম ফকির ওরফে বাউল সেলিম হিসেবে। এলাকায় খুনি হেলাল হিসেবে পরিচিত তিনি নিজেকে আড়াল করতে বাউলের ছদ্মবেশ ধারণ করেন। এমনকি ইউটিউবে প্রকাশিত “ভাঙ্গা তরী ছেড়া পাল” গানের মডেলিংও করছিলেন এই খুনি হেলাল।
প্রায় ছয় মাস আগে ইউটিউবে প্রকাশিত ওই গানের ব্যাপারে র্যাবের তৎপরতার পর বুধবার (১২ জানুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলস্টেশন এলাকা থেকে হেলাল হোসেন ওরফে খুনি হেলাল ওরফে সেলিম ফকির ওরফে বাউল সেলিমকে গ্রেফতার করে র্যাব-৩।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিজ এলাকা বগুড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করতে প্রায়ই বিভিন্ন সংঘাতে জড়াতেন হেলাল হোসেন।
গ্রেফতার হেলালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তিনি বলেন, হেলাল ২০০১ সালের বগুড়ার চাঞ্চল্যকর বিদ্যুৎ হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফেরারি আসামি। এর বাইরে ১৯৯৭ সালে বগুড়ার বিষ্ণু হত্যা মামলা এবং ২০০৬ সালে রবিউল হত্যা মামলার আসামি বলেও সে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা এবং একটি চুরির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু সে যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাকে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করে খোঁজ-খবর নিলে হয়তো আরো মামলার বিষয়ে জানা যাবে।
একজন র্যাব কর্মকর্তা বলেন, হেলাল এলাকায় দুর্ধর্ষ হেলাল ও খুনি হেলাল নামে পরিচিত। ২০০০ সালে এক সংঘর্ষে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে তার বাম হাতে মারাত্মক জখম হয়ে পঙ্গু হন। এই ঘটনার পর হাত লুলা হেলাল হিসেবেও এলাকায় পরিচিতি লাভ করেন।











