spot_img

এই শিক্ষাব্যবস্থাকে কোনভাবেই মুসলমানের শিক্ষাব্যবস্থা বলা যায় না : চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী রেজাউল করীম বলেছেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো জনগণকে ধোকা দিয়ে বোকা বানিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করেছে। জনগণকে শাসনের নামে শোষণ করছে। সাম্য, মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারের মূল লক্ষ্য নিয়ে দেশ স্বাধীন হলেও আজ দেশে ন্যায়বিচার নেই, মানবিক মূল্যবোধ বলতে কিছু নেই। আজো ন্যায়বিচারের আশায় মানুষ দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়। স্বাধীনতার ৫১ বছরেও মানুষের ভাত ও ভোটের অধিকার নেই। কেউ বস্তি ও ঝুঁপড়িতে বসবাস করে, আবার কেউ সীমাহীন আরাম আয়েশে আকাশচুম্বি সুখ ভোগ করে। কোথায় সাম্যতা? প্রকৃত সাম্য প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর রা. বিশ্ববাসীর সামনে ইতিহাস তৈরি করে গেছেন।

আজ (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত কেন্দ্রীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাবার কোন শক্তি নেই। এধরণের বক্তব্য সরসারি ইসলামবিরোধী। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন- নমরুদ, ফেরাউন সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর শাসক ছিলো। কিন্তু তাদেরও ইতিহাসের ভয়াবহ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। কাজেই ক্ষমতার দাম্ভিকতা দেখাবেন না। তিনি বলেন, বিশ্বে তেলের দাম কমলেও আমাদের দেশে দাম বাড়ে, বিদ্যুতের দাম ফের বাড়ানো হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের মানুষ বিশেষ করে মধ্যবিত্তের মানুষ কষ্টে আছে।

তিনি বলেন, সরকারের লোকজন কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে বিদেশে পাচার করেছে। পাচারকৃত টাকাগুলো ফেরত আনার ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সিলেবাসে ডারউইনের থিওরি, নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংযোজন করে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। এ শিক্ষাব্যবস্থাকে কোনভাবেই মুসলমানের শিক্ষাব্যবস্থা বলা যায় না। তিনি শিক্ষা ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় সর্বত্র আন্দোলন গড়ে উঠলে সরকারের জন্য কল্যাণকর হবে না।

সম্মেলনে মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে সভাপতি, আলহাজ্ব আব্দুর রহমানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও মাওলানা খলিলুর রহমানকে সেক্রেটারী জেনারেল করে ২০২৩-২৪ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করে দলের আমীর পীর সাহেব চরমোনাই।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী, নায়েবে আমীর মুফতী ফয়জুল করীম, নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, উপদেষ্টা প্রফেসর ডা. আক্কাস আলী সরকার সাবেক এমপি, যুগ্ম মহসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, যুবনেতা মাওলানা নেছার উদ্দিন প্রমুখ।

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ