কানাডার আলবার্তায় অবস্থিত এডমন্টন শহরে মুসলিম নারীদের ওপর ইসলামবিদ্বেষী হামলা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীরা বেশি হয়রানির শিকার হয়েছেন। গত জুনে লন্ডনে ট্রাক হামলা, ২০১৭ সালে কুইবেক শহরে মসজিদে গোলাগুলি, গত বছর টরোন্টোতে মসজিদের বাইরে ছুরিকাঘাত, ইসলামবিদ্বেষী হামলার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমসের (এনসিসিএম) যোগাযোগবিষয়ক সমন্বয়ক ফাতেমা আবদেলা বলেন, গত ছয় মাসে এডমন্টন শহরে মুসলিম নারীদের ওপর ১৫টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রতি সপ্তাহে কানাডাজুড়ে অসংখ্য মুসলিম নারীর বুলিংয়ের শিকার হন। এসব নারী হয় তাদের প্রতিদিনের হাঁটাহাঁটিতে বেরিয়েছিলেন অথবা পার্কে গিয়েছিলেন অথবা কোনো সেন্টশনে গিয়েছিলেন অথবা কোনো ট্রানজিট স্টেশনে ছিলেন।
আফ্রিকান কানাডিয়ান সিভিল এনগেজমেন্ট কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট দুনিয়া নূর জানান, আমরা একটি টাউন হল মিটিং করেছি, যেখানে বহু নারী এসেছিলেন। তারা বলেছেন, তাদের ওপর এর আগে ছুরি নিয়ে হামলা করা হয়েছে। কেউ বলেছেন, তাদেরকে বলা হয়েছে ঘরে ফিরে যেতে। লিঙ্গগত সহিংসতার শিকারে পরিণত হয়েছেন অনেকে। ঘৃণাপ্রসূত অপরাধের শিকারে পরিণত হয়েছেন অনেকে।
দুনিয়া নূর আরও জানান, কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীদের ওপর ছুরি হামলাও হয়েছে। নারী লিঙ্গের কারণে অনেকেই সহিংসতার শিকার হয়েছে। এছাড়া ইসলামভীতি ও ঘৃণাপ্রসূত হয়েও মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
মুসলিম নারীদের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত সিস্টার্স ডায়ালগে’র প্রতিষ্ঠাতা ওয়াতি রহমত বলেন, এডমন্টনে মুসলিম নারীরা ভীতির মধ্যে আছেন।
সম্প্রতি কানাডায় কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীদের ওপর মৌখিক ও শারীরিক আক্রমণ বেড়েছে। গত জুনেও হিজাব পরিহিত মুসলিম দুই বোনের দিকে ছুরি নিয়ে এক ব্যক্তি আক্রমণ করে ও অশ্লীল ভাষায় গালি দেয়। অন্যত্র গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত মুসলিম নারীদের ধাক্কাতে ধাক্কাতে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।
এডমন্টনের পুলিশ দাবি করে, ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে এডমন্টন শহরে হিজাব পরা কৃষ্ণাঙ্গ মুসলিম নারীদের অবমাননার পাঁচটি ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে তারা।
মুসলিম সম্প্রদায়ের আইনজীবীরা জানান, অনেক ঘটনার অভিযোগ হয় না। ভুক্তভোগীরা পুলিশ-থানা পর্যন্ত যেতে যান না।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ আলবার্তার রাজধানী এডমন্টন। মিউনিসিপ্যালিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সেখানে কমপক্ষে ৯ লাখ ৭২ হাজার মানুষের বসবাস।
সূত্র: আল জাজিরা












