spot_img
spot_img

আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জনালেন বিশ্ব নেতারা

যুদ্ধের অবসান, ইরানের ওপর আমেরিকার অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে আমেরিকা ও ইরান।

রোববার (১২ জুন) দুই দেশের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন পুনরায় শুরু হলে জ্বালানির দাম কমতে পারে।

চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিক্রিয়া নিচে তুলে ধরা হলো।

জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের একজন মুখপাত্র বলেন, “আমেরিকা ও ইরান তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করে শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে, এমন ঘোষণাকে মহাসচিব স্বাগত জানিয়েছেন। সংঘাতের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির যৌথ বিবৃতি

ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালির ই-৪ নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। এ লক্ষ্য অর্জনে আমরা আমেরিকা, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।”

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, “আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া চুক্তিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার স্বাগত জানায়। অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা হ্রাস এবং লেবাননসহ সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা আগেও বলেছি, এই যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, এর প্রভাব ততই গুরুতর হবে। আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি ঠেকানো এবং একটি স্থায়ী চুক্তি নিশ্চিত করতে সংযম বজায় রাখা ও গঠনমূলক সম্পৃক্ততা অপরিহার্য হবে।”

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। হরমুজ প্রণালিতে কোনো টোল ছাড়াই অবাধ নৌচলাচল এখন পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে। ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না।”

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই। এটি এমন একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফল, যাতে বেশ কয়েকটি অংশীদার অবদান রেখেছে।”

তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধরত সব পক্ষকে দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গভাবে এ চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাই। এ চুক্তির মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে এবং কোনো শর্ত ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে হবে। ব্রিটেনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক মিশন এ ক্ষেত্রে সহায়তা করতে প্রস্তুত।”

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, “আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই এবং এই কূটনৈতিক অগ্রগতির জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইরানি পক্ষকে অভিনন্দন জানাই।”

তিনি বলেন, “এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরও নিরাপদ করার পথ তৈরি করতে পারে। দৃঢ়তার সঙ্গে চুক্তিটি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, জাপান জোরালোভাবে আশা করে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচল বাস্তবে নিশ্চিত হবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয়ে যত দ্রুত সম্ভব একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে।

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেন, “অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক এই চুক্তি এমন একটি অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার পথে একটি পদক্ষেপ, যে অঞ্চলটি বিশ্ব অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম এখনো সংলাপ ও কূটনীতি।”

সূত্র: রয়টার্স

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ