spot_img

মিয়ানমার নিয়ে উদ্বিগ্ন চীন

মিয়ানমারে সেনাঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে চীনবিরোধী স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড লক্ষ্য করা গেছে।

চীন সেনাঅভ্যুত্থানকে সমর্থন করছে, চীনের সমর্থনেই সেনাবাহিনী এই সাহস পেয়েছে— এমন অনেক ক্ষুব্ধ মন্তব্যও মিয়ানমারে ফেসবুক-টুইটারে অনেকে করছেন।

এর পর রোববার প্রথম দেখা গেল চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে সরাসরি হামলা। ইয়াঙ্গুনের শহরতলিতে একটি শিল্প এলাকায় ৩২টি চীনা মালিকানাধীন কারখানায় হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এতে প্রায় ৩.৭ কোটি মার্কিন ডলারের সমমূল্যের সম্পদ নষ্ট ও দুই চীনা নাগরিক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। অপরাধীদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবিও জানিয়েছে চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমটি। চীনা কর্তৃপক্ষের আহ্বানের পরই সোমবার ইয়াঙ্গুনের দুটি শিল্পাঞ্চলে সামরিক আইন জারি করা হয়।

ইয়াঙ্গুনের হ্লাইংথায়াসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলা ও মান্দালয় শহরে কয়েকটি এলাকায় মার্শাল ল’ জারি করা হয়েছে।

অভ্যুত্থানের শুরু থেকে চীন একে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ ইস্যু বলে পাশ কাটিয়ে আসছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারবিরোধী একটি নিন্দা প্রস্তাবও আটকে দেয় দেশটি। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আন্তর্জাতিক চাপ পুরো পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করবে।

এমন অবস্থায় মিয়ানমারে সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পাশাপাশি চীনবিরোধী সমাবেশও চলছে। এর অংশ হিসাবে সোমবারও দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ হয়েছে।

প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— ‘আপনাদের লজ্জা হওয়া উচিত’ ‘ন্যায়বিচার অন্ধ হয়ে গেছে, অভ্যুত্থান করা অপরাধ, আর পেছনে রয়েছে চীন’ ‘চীন আমাদের গণতন্ত্র ভেঙে দিয়েছে’ ‘মিয়ানমারের সেনা শাসন চীনে দ্বারা তৈরি’ ‘চীন মিয়ানমারের ক্ষতি করছে’ ‘মিয়ানমারকে সমর্থন কর, স্বৈরশাসনকে নয়’।

মান্দালয় শহরে বিক্ষোভে ‘চীনা কোম্পানি বেরিয়ে যাও’, ‘চীনা গ্যাস পাইপলাইনে আগুন জ্বলবে’—‘এমন স্লোগানও উঠেছে। মিয়ানমার-চীন গ্যাস পাইপলাইনটি গেছে মান্দালয়ের পাশ দিয়েই।

শেম অন ইউ চীন। দেশ লুঠপাটে সমর্থন বন্ধ কর, চীনা দূতাবাসের কাছে সম্প্রতি এক বিক্ষোভে এমন পোস্টার দেখা গেছে।

পাশাপাশি স্যোশাল মিডিয়ায় চীন নিয়ে বহু গুজব চালাচালি হচ্ছে। কোনো কোনো পোস্টে মানুষ এমন কথাও লিখেছে যে, তারা নিজের চোখে রাস্তায় চীনা সৈন্য দেখেছে যারা ম্যান্ডারিনে কথা বলছে। চীনা নববর্ষ উপলক্ষ্যে মিয়ানমার থেকে মাছ নিয়ে অনেক ফ্লাইট চীনে গেছে। এমন সন্দেহও প্রকাশ করা হয়েছে যে চীন থেকে প্লেন ভরে সৈন্য আনা হচ্ছে।

স্যোশাল মিডিয়ায় এমন কথাও লেখা হয়েছে, ইন্টারনেটে ফায়ারওয়াল তৈরি করতে চীনা ইঞ্জিনিয়ার আনা হয়েছে।

মিয়ানমারে চীনা রাষ্ট্রদূত রয়টার্সের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এসব কথাকে ‘আবোল-তাবোল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

মিয়ানমারের মাদে দ্বীপে রয়েছে চীনের জ্বালানি তেল পরিশোধন প্ল্যান্ট। কৌশলগত অর্থনীতির স্বার্থে যে দুটো দেশ চীনের কাছে এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তার একটি হলো— পাকিস্তান, অন্যটি মিয়ানমার।

বঙ্গোপসাগরে চীনা বিনিয়োগে গভীর সমুদ্রবন্দর তৈরি হয়েছে মিয়ানমারে। সেখান থেকে একটি তেলের পাইপলাইন চীনের ইউনান প্রদেশে গেছে, যেটি ২০১৭ সালে চালু হয়।

গ্যাসের আরেকটি পাইপলাইন ২০১৩ সালে চালু হয়, যা দিয়ে মিয়ানমারের সমুদ্রে উৎপাদিত গ্যাস চীনে যাচ্ছে। এই দুই প্রকল্পে চীন মিয়ানমারে কম-বেশি তিন হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এখন এসব বিনিয়োগের নিরাপত্তা নিয়েই গভীর উদ্বেগে চীন।

সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি

spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ