বুধবার | ২১ জানুয়ারি | ২০২৬
spot_img

ইসরাইল কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং পারবেও না : ওসামা হামদান

ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস বলেছে, অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ওপর গণহত্যা চালিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইল এ পর্যন্ত তার কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। হামাসের লেবানন প্রতিনিধি ওসামা হামদান গতরাতে বৈরুতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রত্যয় জানান।

ইসরাইল গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় বিমান হামলা শুরু করে এবং ২৭ অক্টোবর এই উপত্যকায় স্থল অভিযান শুরু করে যা এখনও চলছে। হামাসকে নির্মূল করে এই সংগঠনের হাতে আটক থাকা ইসরাইলি বন্দিদের মুক্ত করে নেয়াকে চলমান গাজা যুদ্ধের প্রধান দু’টি লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে তেল আবিব।

‘পরাজিত যুদ্ধত্রয়ীর স্বপ্ন ভেঙে যাবে’


ইসরাইলের পক্ষে যে তিন নেতা এই লক্ষ্যের কথা জোরেসোরে উচ্চারণ করছেন তারা হলেন ইহুদিবাদী যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং তার যুদ্ধ মন্ত্রিসভার অপর দুই সদস্য বেনি গান্তজ এবং ইয়োয়াভ গ্যালান্ট।

ওসামা হামদান এই তিন ব্যক্তিকে ‘পরাজিত যুদ্ধত্রয়ী’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে এই যুদ্ধত্রয়ী যে আগ্রাসন শুরু করেছে তাতে তারা কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং সামনের দিনগুলোতেও পারবে না ইনশা আল্লাহ।” হামাস নেতা হামদান বলেন, “তাদের স্বপ্ন ও অলীক কল্পনাগুলো ভেঙে খান খান হয়ে যাবে।”

‘ইসরাইলের কৌশলগত পরাজয়’


হামাসের পলিটব্যুরো সদস্য ওসামা হামদান সংবাদ সম্মেলনে আরো বলেন, প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর হাতে আটক পণবন্দিদের মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে নেতানিয়াহু গাজায় কৌশলগত পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। তিনি বলেন, “যদি নাৎসিবাদী ইসরাইলি শত্রু তার আটক সেনাদের জীবিত ফিরে পেতে চায় তাহলে তাকে আগ্রাসন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে এবং এরপর আমাদের ঘোষিত শর্তে আলোচনায় বসতে হবে।”

‘নেতানিয়াহু এ যুগের হিটলার’


ইহুদিবাদী ইসরাইলের যুদ্ধবাজ প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে ‘যুগের হিটলার’ উল্লেখ করে হামদান আরো বলেন, গাজায় ঢুকলে টুকরো টুকরো হয়ে ফিরে যেতে হবে- এই ফ্যাসিবাদী নেতার একথা জানা থাকা সত্ত্বেও সে তার সেনাদেরকে এই উপত্যকায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রায় ১৯,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত


গাজা উপত্যকার ওপর ইসরাইলের গত ৭০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত প্রায় ১৯,০০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের বেশিরভাগ নারী ও শিশু। এছাড়া আরো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন যাদের প্রায় সবাই ধ্বংসস্তুপের নীচে চাপা পড়ে রয়েছেন। তাদের অনেকে হামলার প্রথম প্রহরেই নিহত হয়েছেন এবং কেউ কেউ হয়তো ধ্বংসস্তুপের নীচে ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। খালি হাতে ফিলিস্তিনি উদ্ধারকর্মীদের পক্ষে এসব মানুষকে বের করে আনা সম্ভব হয়নি। হামাস নেতা ওসামা হামদান বলেন, “এই গণহত্যা ও বর্বরতা গোটা বিশ্বের সামনে ঘটছে এবং আমেকিরা ও ব্রিটেনসহ ইউরোপীয় দেশগুলো তাতে সমর্থন যোগাচ্ছে।”#.

পার্সটুডে

spot_img
spot_img
spot_img
spot_img

সর্বশেষ